ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি, ৭ ফেব্রুয়ারি : পারস্পরিক ও উভয় দেশের জন্য লাভজনক বাণিজ্য ব্যবস্থার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী চুক্তির একটি কাঠামোতে ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। শুক্রবার জারি করা যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই কাঠামো ভবিষ্যতের বিস্তৃত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বাইল্যাটারাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা বিটিএ)-র পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এই বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল। অন্তর্বর্তী চুক্তির এই কাঠামো দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক ও ফলপ্রসূ বাণিজ্য সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করল বলে জানানো হয়েছে।
ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পপণ্যের উপর শুল্ক বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। পাশাপাশি শুকনো ডিস্টিলার্স গ্রেইনস (ডিডিজি), পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বাদাম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও মদ-সহ বিভিন্ন মার্কিন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের উপরও শুল্ক হ্রাস করা হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ভারতের পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক প্রয়োগ করবে। এর আওতায় থাকবে বস্ত্র ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ। তবে অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হলে জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরা, এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো বহু পণ্যের উপর এই পারস্পরিক শুল্ক তুলে নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে আরোপিত বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশ সংক্রান্ত কিছু শুল্ক ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে ভারতের জন্য স্বয়ংচালিত যন্ত্রাংশে বিশেষ শুল্ক কোটা সুবিধা দেওয়া হবে। ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল সংক্রান্ত মার্কিন তদন্তের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ভারত এ ক্ষেত্রেও আলোচনার মাধ্যমে সুবিধা পাবে।
উভয় দেশ পরস্পরকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির সুবিধা যেন মূলত ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে জন্য ‘রুলস অব অরিজিন’ নির্ধারণ করা হবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে এমন অ-শুল্ক বাধা দূর করতেও দুই দেশ একমত হয়েছে। ভারত মার্কিন চিকিৎসা সরঞ্জাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পণ্য এবং খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে মার্কিন বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ভারতীয় বাজারে গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তৃতীয় দেশের অ-বাজার নীতির মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ, বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণেও সহযোগিতার কথা জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক বা জটিল নিয়ম দূর করে শক্তিশালী ও পারস্পরিক লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের বিটিএ-র অংশ হবে।
ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কয়লা কিনতে চায়। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য ও যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দুই দেশ দ্রুত এই কাঠামো কার্যকর করে অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোবে এবং এর ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ, পারস্পরিক লাভজনক ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

