হারারে, ৬ ফেব্রুয়ারি : ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল ষষ্ঠবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করেছে সুর্যবংশীরা। হরারে স্পোর্টস ক্লাবে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারতীয় দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল ভৈভব সুর্যবংশীর দারুণ ১৭৫ রানের ব্যাটিং। অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে নেতৃত্বাধীন দল প্রথমে ৯ উইকেটে ৪১১ রান সংগ্রহ করে এবং পরে ইংল্যান্ডকে ৩১১ রানে অলআউট করে দিয়ে অভূতপূর্ব বিজয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের নায়ক ভৈভব সুর্যবংশী ছিলেন। তিনি ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালে এই বাল্যসৈনিক বামহাতি ব্যাটসম্যানের ইনিংস কেবল একটি রেকর্ড নয়, বরং এক শক্তিশালী বক্তব্য ছিল। মাত্র ৫৫ বলেই শতক স্পর্শ করেন সুর্যবংশী, যা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। এর আগে তিনি ৩২ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেছিলেন।
তার ইনিংসে ৩০টি বাউন্ডারি ছিল, যার মধ্যে ১৫টি ছয়। মাত্র ৭১ বলেই ১৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি। এই ইনিংসে ভারতের সর্বোচ্চ রানের টার্গেট গড়ে তোলা হয়েছে এবং ফাইনালের সর্বোচ্চ একক ইনিংসের রেকর্ডও স্থাপন করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ২২টি ছয় মেরে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিউয়াল্ড ব্রেভিসের রেকর্ড ভাঙেন।
সুর্যবংশীর ইনিংসের সময় আয়ুষ মাত্রে ৫১ বলে ৫৩ রান করে ভারতের প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করেছিলেন। এছাড়াও অভিজ্ঞ্যন কুন্ডু, ভেদান্ত ত্রিবেদী, বিভাগ মালহোত্রা ও কনিষ্ক চৌহান মিলে ভারতকে ৪০০ রানের অতিক্রমে পৌঁছে দেন।
ক্যালেব ফ্যালকনার ইংল্যান্ডের পক্ষে কিছুটা প্রতিরোধ দেখালেও তা যথেষ্ট ছিল না। ৪১২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমেও ইংল্যান্ড কখনও দৃঢ় অবস্থান গড়তে পারেনি। আক্রমণে ব্যর্থতা, রান আউট এবং ভারতীয় বোলিংয়ের চাপের কারণে দলটি ৩১১ রানে অলআউট হয়। ফ্যালকনার ২৬ বলে অর্ধশতক করেছিলেন এবং জেমস মিন্টো সঙ্গে ৯২ রানের অষ্টম উইকেটের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ দেখালেও, শেষ পর্যন্ত ভারতের দাপটের কাছে ইংল্যান্ড হার মেনে নেয়।
ভারতের এই জয় কেবল ষষ্ঠ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা আনল নয়, এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী বিজয়গুলির মধ্যে একটি হিসেবেও ধরা হচ্ছে।

