ডিএম জনতার দরবারে সাংবাদিকদের প্রতি অবহেলা, মাটিতে বসে সংবাদ সংগ্রহ প্রশাসনের নীরবতা ঘিরে তীব্র প্রশ্ন

আহরতলা, ৩ জানুয়ারি: খোয়াই জেলাশাসকের উদ্যোগে আজ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চাকমাঘাট ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো ডি.এম জনতার দরবার। কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন। তবে জনতার সমস্যা শোনার এই মঞ্চেই উঠে এলো চরম অব্যবস্থা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার ছবি।

অভিযোগ, খোদ মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানালেও অনুষ্ঠানে পৌঁছে তাঁদের জন্য কোনও বসার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে মাটিতে বসেই সংবাদ সংগ্রহ ও কভারেজ করতে হয় সাংবাদিকদের, যা তাঁদের কাছে চরম অপমানজনক বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, জেলা শাসকের দপ্তরের এক সরকারি কর্মচারী রতন কলই সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাংবাদিকদের কাজ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই পুরো ঘটনার দৃশ্য সামনেই থাকা সত্ত্বেও মঞ্চে চেয়ারে বসে থাকা জেলাশাসক, মহকুমা শাসকসহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। সাংবাদিকদের প্রতি এই অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে কেউই কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতি এমন ব্যবহার প্রশাসনের দায়িত্ববোধ ও মানসিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে। জনতার সমস্যা শোনার মঞ্চে সেই সমস্যাগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সাংবাদিকরাই যখন অবহেলার শিকার হন, তখন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার জেরে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ‘ডি.এম জনতার দরবারে’ উপস্থিত সাধারণ মানুষও পড়েন চরম দুর্ভোগে। প্রখর রোদে মাথার উপর কোনও ছাউনি না থাকায় দাঁড়িয়েই পরিষেবা নিতে বাধ্য হন তাঁরা। মহারানীপুর এলাকার এক বৃদ্ধা মহিলা সংবাদমাধ্যমকে জানান,
এই পরিস্থিতিতে আমাদের অনেকটা অসুবিধা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই চরম অব্যবস্থাপনার দায় প্রশাসন নেবে কি না, নাকি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। জনতার দরবারে জনতা ও সাংবাদিক—উভয়ের প্রতিই এমন অবহেলা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

Leave a Reply