নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি : দেশের দ্রুতগামী ও পরিবেশবান্ধব যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডর গঠনের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শনিবার সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশ করার সময় তিনি এই ঘোষণা করেন।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত করিডরগুলি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিকে আরও ভালোভাবে যুক্ত করবে এবং দূরপাল্লার যাত্রায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, সরকার পরিবেশবান্ধব যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর গড়ে তুলতে প্রস্তাব করছে।
বাজেট ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত হাই-স্পিড রেল করিডরগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বই–পুণে, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, দিল্লি–বারাণসী, বারাণসী–শিলিগুড়ি, পুণে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–চেন্নাই এবং চেন্নাই–বেঙ্গালুরু।
এই রুটগুলি দেশের বড় মহানগরগুলিকে দ্রুত বিকাশমান শিল্প ও নগর কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সড়ক ও প্রচলিত রেল পরিষেবার উপর চাপ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাই-স্পিড রেলের পাশাপাশি বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৭ অর্থবর্ষে সরকারি মূলধনী ব্যয় হিসেবে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৬ অর্থবর্ষে ছিল ১১.২ লক্ষ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ২০১৪–১৫ সালে যেখানে মূলধনী ব্যয় ছিল মাত্র ২ লক্ষ কোটি টাকা, সেখানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা সরকারের পরিকাঠামোভিত্তিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির নীতির প্রতিফলন।
এছাড়াও বড় প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিস্ক গ্যারান্টি ফান্ড’ গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে, যা নির্মাণপর্বে সীমিত সরকারি ঋণ-গ্যারান্টি দেবে।
যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ ও লজিস্টিক্স ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বাজেটে দানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি নতুন পূর্ব–পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরে ২২টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং পরিবহণ খরচ কমে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগগুলি পণ্য পরিবহণকে আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই কার্গো পরিবহণে সহায়তা করবে।
বাজেটে ছোট ও মাঝারি শহরগুলির উন্নয়নের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহর এবং মন্দিরনগরগুলির উন্নয়নের জন্য আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে।
এই অর্থ নগর পরিকাঠামো, নাগরিক পরিষেবা ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে বড় শহরে অভিবাসনের চাপ কমানো এবং ভারসাম্যপূর্ণ নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।

