নয়নদিল্লি/ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি :
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণা হওয়ার পর ভারতের বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে বাংলাদেশকে বরাদ্দকৃত অর্থ একেবারে অর্ধেক করা হয়েছে। আগের অর্থবর্ষে বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, এবার তা ৬০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
ভারতের বৈদেশিক উন্নয়ন – এর সাহায্য হিসেবে মোট বরাদ্দ এই বাজেটে ৫,৬৮৬ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে আগের বছর থেকে ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবুও বাংলাদেশকে দেওয়া সাহায্য হিসেবে সবচেয়ে বড় কাট দেওয়া দেশের মধ্যে অন্যতম।
সরকারের বাজেট নথি থেকে জানা গেছে, পূর্ববর্তী অর্থবর্ষে ১২০ কোটি টাকার বরাদ্দের মধ্যে কার্যকরভাবে মাত্র ৩৪.৪৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল, এমন একটি পটভূমিতে এবার বরাদ্দ আরও কমিয়ে ৬০ কোটি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে, কারণ বাংলাদেশে সম্প্রতি সংখ্যালঘু নির্যাতন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং রাজনৈতিক আগ্রাসনের খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সম্পর্ককে টানাপোড়েনের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এ বছর বাজেটে একটি বড় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও বরাদ্দ না রাখা। ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নয়ন করা এই কৌশলগত প্রকল্পে আগে বরাদ্দ থাকলেও, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে একটুও টাকা রাখা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর পুনরায় চাপ এবং সেখানে বাণিজ্য করলে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি থাকতে পারে, যা ভারতের দৃষ্টিতে এই প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক পারিপার্শ্বিকতা ইত্যাদি কারণ মিলিয়ে এই বাজেট সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক মমতার তাপমাত্রা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
কেন্দ্রীয় বাজেটের এই পরিবর্তন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গতি-প্রকৃতিকে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নতুনভাবে আসে পড়তে পারে।

