আগামী প্রজন্মের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সমস্ত এডিসি আসন জিততে হবে বিজেপিকে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১ ফেব্রুয়ারি: জনজাতি অংশের জনগণ যদি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং উন্নত ভবিষ্যত চান, তাহলে বিজেপিকে আসন্ন এডিসি নির্বাচনে সমস্ত ২৮টি আসন জয়ী করতে হবে। আর শান্তির পরিবেশ না থাকলে কোন অবস্থায় উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ভারতীয় জনতা পার্টির মান্দাই মন্ডলের উদ্যোগে আজ বুরাখা বাজারে আয়োজিত এক যোগদান সভায় অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এই যোগদান সভায় বিপুল পরিমাণে মা বোনেদের উপস্থিতি এটাই বোঝা যাচ্ছে যে আগামীদিনে কি হতে যাচ্ছে। এরমধ্যে আর দ্বিমত নেই যে খুমুলুং এ কি হতে যাচ্ছে। খুমুলুং এ ইতিমধ্যে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছে। আপনারা বুঝতে পারছেন যে ৩৫ বছর ধরে সিপিএম কিভাবে তিপ্রাসাদের শাসন করে গেছে। আর এখন যারা এডিসি চালাচ্ছে তাদের উপর আপনাদের অনেক বিশ্বাস ছিল। কিন্তু আজ সেই বিশ্বাস পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সব জায়গাতেই এখন মানুষের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর চলে এসেছে। কারণ সিপিএমের সময়ে জনজাতিদের নানাভাবে সুড়সুড়ি দিয়ে রাজ্যে সন্ত্রাসবাদীদের সৃষ্টি করা হয়েছে। এই তালিকায় এনএলএফটি, এটিটিএফ সহ অসংখ্য রয়েছে। এই জায়গার মধ্যেও কত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। গোটা ত্রিপুরার মধ্যে একটা অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ১৯৮০’র দাঙ্গা আপনারা নিশ্চয় ভুলে যান নি। একটা দেশ বা রাজ্যের উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হচ্ছে শান্তি। শান্তির পরিবেশ না থাকলে কোন অবস্থায় উন্নয়ন সম্ভব নয়। আজ দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার দিক দিয়ে নিচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। কিছুদিন আগে রাজ্যের পুলিশ প্রধান সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন যে ২০ বছরের মধ্যে ৮.২ শতাংশ অপরাধ কমেছে। নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছে।

  বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ত্রিপুরায় সব জায়গায় এখন উন্নয়ন আর উন্নয়ন। আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সেবাই ধর্ম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর জনজাতিদের সার্বিক কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জনজাতি জনগণের সম্মান, উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করেছেন।

  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা সরকার ছাড়া এডিসির উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীরা এডিসির কাছে যাবে না, কারণ তারা প্রথমে রাজ্য সরকারের সম্মতি চায় এবং তাদের আমাদের উপর বিশ্বাস রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বর্ষে আমরা বাজেটের ৪০% এর বেশি এডিসিকে দিয়েছি। আর আপনারা যদি পরবর্তী প্রজন্মকে আরও উন্নত করতে চান তবে আমাদের অবশ্যই এডিসি-র ২৮টি আসনে বিজেপি প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর রাজ্য ব্যাপক উন্নয়নের সাক্ষী হচ্ছে। যেখানেই আমাদের বিজেপির জনজাতি কর্মীরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, সেখানেই আমি প্রথম গিয়েছি। এ কেমন রাজনীতি? সিপিএম এবং কংগ্রেসও হিংসা ও অশান্তির রাজনীতি করত।

  এদিন যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সদর গ্রামীণ জেলার সভাপতি গৌরাঙ্গ ভৌমিক, মান্দাই মন্ডলের সভাপতি অভিজিত দেববর্মা, বিএসি চেয়ারম্যান রণবীর দেববর্মা, বিকাশ দেববর্মা সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব ও কার্যকর্তাগণ। এই যোগদান সভা থেকে ১৫৩ জন ভোটার ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন।

Leave a Reply