ভোটার তালিকা নিয়ে হেরফেরের অভিযোগ: বাংলাদেশে জামাতকে ঘিরে বিএনপি, বাংলার রাজনীতির সুরে মিল

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি :
ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবার বাংলাদেশেও। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস যে অভিযোগ তুলেছিল, প্রায় একই সুরে বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করল বিএনপি।

রবিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান-সহ প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পর বিএনপির তরফে দাবি করা হয়, দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটার যুক্ত বা স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “ইসি জানিয়েছে, খুব বেশি হয়নি—কোনও আসনে দু’-তিন হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়নি। কিন্তু ইসির এই বক্তব্যে আমরা সন্তুষ্ট নই।” তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে এবং নির্বাচন কমিশনকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে বিএনপি।

যদিও বিএনপি সরাসরি জামাত-ই-ইসলামির নাম করে অভিযোগ তোলেনি, তবু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামাতই তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হওয়ায় অভিযোগের তির তাদের দিকেই বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরুর আগে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাইরের লোক এনে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা’র অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি ছিল, বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় বিপুল সংখ্যক বহিরাগতকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও পরে সেই বিতর্ক কিছুটা স্তিমিত হয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে সংশয় ও অভিযোগ নতুন নয়। তবে এই ইস্যু ঘিরে দুই বাংলার রাজনৈতিক কথোপকথনে সাদৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply