আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মমতা সরকারকে তীব্র আক্রমণ শাহের, ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ পাল্টা খোঁচা তৃণমূলের

ব্যারাকপুর/কলকাতা, ৩১ জানুয়ারি: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে বিজেপির কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আনন্দপুরের আগুনের ঘটনা কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দুর্নীতির ফল”।

ভাষণের শুরুতেই তিনি নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বলেন, “আনন্দপুরে মোমো কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের প্রাণ গিয়েছে, ২৭ জন নিখোঁজ।” যদিও সরকারি সূত্রে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।

শাহ প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট গুদামের মালিককে এখনও কেন গ্রেফতার করা হয়নি এবং তিনি কার ‘ঘনিষ্ঠ’। বিজেপির তরফে আগেই দাবি করা হয়েছে, একটি বেসরকারি খাদ্য সংস্থার কর্ণধারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই ইঙ্গিতেই শাহ বলেন, “মমতাজি, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অগ্নিকাণ্ডের পর ৩২ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনও মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যাননি, পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র ছিল না, জলাভূমির উপর গুদাম তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি ছিল। তাঁর কথায়, “ভিতরে মানুষ চিৎকার করছিলেন, কিন্তু বেরোতে পারেননি।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “এপ্রিলের পরে বিজেপি সরকার এলে দায়ীদের জেলে পাঠানো হবে।”

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রসঙ্গেও শাহ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্য জমি দিচ্ছে না বলেই কাজ আটকে আছে। তিনি বলেন, “৩১ মার্চের মধ্যে জমি দিন বা না দিন, বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হবে।”

শাহের বক্তব্যের পরই তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা আক্রমণে নামে। দলীয় সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, গুজরাতে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার থাকা সত্ত্বেও বারবার সেতু ভেঙে পড়ার মতো পরিকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটছে— তার দায় কার? “ঈশ্বরের হাত, না জালিয়াতি?”— এমন প্রশ্ন তোলে তৃণমূল।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তৃণমূলের প্রশ্ন, সীমান্তরক্ষার দায়িত্ব বিএসএফ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র কেন সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারছে না। দলটির দাবি, অনুপ্রবেশের দায় একতরফাভাবে রাজ্যের ওপর চাপানো ঠিক নয়।

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই বাকযুদ্ধ নতুন করে তাপমাত্রা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত ও দায় নির্ধারণ নিয়ে।

Leave a Reply