কলকাতা, ৩০ জানুয়ারি : ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে অধিগৃহীত জমি ৩১ মার্চের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
আদালত জানায়, নয়টি জেলায় অধিগৃহীত জমি আর বিলম্ব না করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দিতে হবে, যাতে সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়। বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, প্রশাসনিক বা নির্বাচনী কারণ দেখিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বিলম্ব করা যাবে না। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন প্রস্তুতি বা অন্যান্য কারণ এই নির্দেশ অমান্য করার অজুহাত হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করে।
আদালত আরও উল্লেখ করে, ভারতের মোট বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় অর্ধেক অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও ২০১৬ সাল থেকে সীমান্তের বহু অংশ এখনও বেড়াবিহীন রয়েছে।
মামলাকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক সুব্রত সাহা অভিযোগ করেন, সীমান্ত বেড়ার জন্য জমির দখল রাজ্য সরকার বিএসএফকে না দেওয়ায় চোরাচালান ও সীমান্ত অনুপ্রবেশ বেড়েছে। কেন্দ্রের আইনজীবী আদালতে জানান, ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া রাজ্যের সাংবিধানিক দায়িত্ব, যদিও জমিটি রাজ্যের অধিক্ষেত্রে পড়ে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বারবার স্মরণ করালেও ২৩৫ কিলোমিটার বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমির মধ্যে অল্প কিছু প্লটই রাজ্য হস্তান্তর করেছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয়কেই হলফনামা দিতে বলে, নিরাপত্তাজনিত কারণে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ সম্ভব কি না তা জানাতে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২ এপ্রিল।
এদিকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, এই নির্দেশ রাজ্য সরকারের জন্য “একটি জোরালো বার্তা”। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী এই আদেশকে “যথাযথ ও প্রশংসনীয়” বলে মন্তব্য করেন।
শাসক তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা বিএসএফের ভূমিকায় প্রশ্ন তোলে। দলের বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, রাজ্য যে জমি দিয়েছে, তার সব জায়গায় এখনও বেড়া দেওয়া হয়নি। তিনি বিষয়টিকে “রাজনৈতিক জাগলারি” বলে কটাক্ষ করেন।

