আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ২৫, শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর; ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

কলকাতা, ৩০ জানুয়ারী : পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনাটিকে তিনি “অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃতের নিকটাত্মীয়কে ২ লক্ষ টাকা করে এক্স-গ্রেশিয়া সহায়তা দেওয়া হবে। আহতদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা।

গত ২৬ জানুয়ারির রাতে লাগা এই আগুনে দুটি গোডাউন এবং একটি মোমো প্রস্তুতকারক ইউনিট সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে গোটা এলাকা ছাই হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে দগ্ধ কাঠামো ও মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করা হয়। দমকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন গ্যাস কাটারের সাহায্যে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছে।

আংশিকভাবে দগ্ধ ও কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোট ২৭ জন নিখোঁজের অভিযোগ জমা পড়েছে, যাদের বেশিরভাগই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২৫ জানুয়ারির রাতে একটি ডেকোরেটরের গোডাউনে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে অন্তত ২৮ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাতের খাবারের পর অধিকাংশ শ্রমিক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, সেই সময়েই আগুন লাগে। একটি সিগারেট বা অন্য কোনও দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে জনপ্রিয় ফাস্টফুড সংস্থা বাহ! মোমো!-ও এই দুর্ঘটনায় তাদের তিন কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে “হৃদয়বিদারক ক্ষতি” বলে উল্লেখ করেছে। মৃত তিন কর্মীর পরিবারের জন্য প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ, আজীবন মাসিক বেতন সহায়তা এবং তাঁদের সন্তানদের পূর্ণ শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।

এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বাহ! মোমো! লিখেছে, “এটি এক হৃদয়বিদারক ক্ষতি, যা আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আমরা আমাদের তিন মূল্যবান সহকর্মীর মৃত্যুশোকে কাতর এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আমরা প্রার্থনা, সহায়তা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে তাঁদের পাশে রয়েছি।”

Leave a Reply