২৪×৭ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে দেশসেরা হওয়ার লক্ষ্যে ত্রিপুরা: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি: ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এই লক্ষ্যেই দেশ সেরা রাজ্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

আজ আগরতলায় টিএসইসিএল কর্পোরেট অফিসে ব্যুরো অব এনার্জি এফিসিয়েন্সি (বিইই) এবং ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৩০ জন আশা ফ্যাসিলিটেটরের মধ্যে ই-বাইসাইকেল বিতরণকালে তিনি এই কথা বলেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ ও দায়িত্বশীল।

তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিদ্যুৎ ছাড়া কোনও কাজই সম্ভব নয়। তাই আমাদের পরিষ্কার ও সবুজ শক্তির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সৌরশক্তির মাধ্যমে আমরা ইতিমধ্যেই ২৫টি গ্রামে জল সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। এখন সৌরশক্তির ওপর আরও বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। আমরা দাবি করছি না যে বিদ্যুৎ সরবরাহে আমরা দেশের এক নম্বরে আছি, বর্তমানে ত্রিপুরা চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সঠিক ও ২৪×৭ বিদ্যুৎ পরিষেবা দিয়ে দেশসেরা রাজ্যে পরিণত হওয়া।

মন্ত্রী আরও জানান, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি মেগাওয়াটে ৭ থেকে ২০ কোটি টাকা খরচ হয়, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা, অথচ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ মাত্র প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রতি মেগাওয়াট।

তিনি বলেন যদি সর্বত্র সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা যায়, তাহলে আমরা অবশ্যই দেশসেরা হতে পারব। প্রায় ৩৮,০০০ কানি জমিতে সৌর পাম্প বসানো হয়েছে, যার ফলে আগামী ২৫ বছর জল নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। এখন মানুষ সৌরশক্তি থেকে আয়ও করছেন এবং বিদ্যুৎ বিলও শূন্য পাচ্ছেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী আশা কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁদের সমাজের যোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের টিকাকরণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি আমাদের আশা কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের অবশ্যই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা নীরবে কাজ করে যান—তাঁরাই সমাজের প্রকৃত যোদ্ধা।

Leave a Reply