সিঙ্গাপুর, ৯ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের খবর সামনে আসার পর চাঙ্গি বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও কড়া করার সিদ্ধান্ত নিল সিঙ্গাপুর। আক্রান্ত এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা পরীক্ষা (থার্মাল স্ক্রিনিং) চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সেখানকার প্রশাসন।
বুধবার এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের কমিউনিকেবল ডিজিজেস এজেন্সি জানিয়েছে, দেশের প্রবেশপথগুলিতে যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করা হবে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিদেশগামী যাত্রীদেরও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হবে।
এছাড়াও, সাউথ এশিয়া থেকে আগত নতুন অভিবাসী শ্রমিকদের উপর নজরদারি আরও জোরদার করছে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রক।
এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, নিপাহ ভাইরাস সাধারণত বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে অথবা বাদুড়ে দূষিত খেজুরের রস কিংবা ফল খাওয়ার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। যদিও ২০১১ সাল থেকে সিঙ্গাপুরে বাদুড়দের উপর চালানো জৈব নজরদারি কর্মসূচিতে এখনও পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের কোনও উপস্থিতি ধরা পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে চিনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
উল্লেখ্য, নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস—যা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। দূষিত খাবারের মাধ্যমে বা মানুষে-মানুষেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্তদের ক্ষেত্রে উপসর্গহীন সংক্রমণ থেকে শুরু করে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও প্রাণঘাতী এনসেফালাইটিস পর্যন্ত হতে পারে। পশুদের মধ্যেও, বিশেষ করে শূকরের ক্ষেত্রে, এই ভাইরাস মারাত্মক সংক্রমণ ঘটিয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় শূকর পালনকারীদের মধ্যে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই বছরের পর মালয়েশিয়ায় নতুন করে আর কোনও প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। ২০০১ সালে বাংলাদেশে এই রোগ শনাক্ত হয় এবং তারপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই সেখানে নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকাতেও সময় সময় এই রোগের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নিপাহে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি ও গলা ব্যথা। পরে মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, চেতনায় পরিবর্তন এবং স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা তীব্র এনসেফালাইটিসের ইঙ্গিত দেয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নিউমোনিয়া ও গুরুতর শ্বাসকষ্টও হতে পারে। মারাত্মক অবস্থায় খিঁচুনি ও এনসেফালাইটিস থেকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।

