আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬: কেন্দ্রীয় সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে আজ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার আগরতলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হল সাংবাদিকদের নিয়ে “বার্তালাপ’। পিআইবি আগরতলার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম রাইফেলসের ২১ নম্বর সেক্টরের ডিআইজি ব্রিগেডিয়ার নিশান্ত চাঁন্দেল, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক ও সমাহর্তা অসিত কুমার দাস, রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার অচিন্ত্য কিলিকদার, ত্রিপুরা শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের সদস্যা চামেলি সাহা, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপ অধিকর্তা দেবাশিস লোধ এবং আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসাম রাইফেলসের ২১ নম্বর সেক্টরের ডিআইজি ব্রিগেডিয়ার নিশান্ত চাঁন্দেল নেশার বিস্তার এবং এর কড়াল গ্রাস থেকে যুবকদের রক্ষা করতে অভিবাবকদের সচেতন হবার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশকে দুর্বল করতে অত্যন্ত পরিকল্পনা করেই চিন থেকে নেশার বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে যুবকদের। কারণ যুবকরাই হলেন দেশের মূল শক্তি।
তাই যখন কোনো দেশকে দুর্বল করতে বিদেশী শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠে, তখন প্রথমেই সেই দেশের যুবকদের আগে শেষ করে দেওয়া হয়। যুবকদের ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হলে সেই দেশের গোটা সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়বে। ব্রিগেডিয়ার চাঁন্দেল বলেন, এরজন্য স্কুল কলেজগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে। তাই ড্রাগসের কারণে যারা মারা যাচ্ছে তাদের মধ্যে ৬৯-৭০ শতাংশই হল ১৮-৩০ বছরের যুবক।এ সমস্ত যুবকদের প্রথমে বিনামূল্যে ড্রাগ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে একটা সময়ে তাদেরকে আরও দামী ড্রাগস নিতে বাধ্য করা হচ্ছে যা সংগ্রহ করতে গিয়ে ঘর থেকে চুরি করতে হচ্ছে। এরজন্য রাষ্ট্র বা ব্যবস্থাকে দায়ী করার আগে প্রত্যেকটা পরিবারকে প্রথমেই দায়িত্ব নেওয়া আবশ্যক বলে মন্তব্য করেন তিনি। শ্রী চাঁন্দেল বলেন, শিশুদের জন্য সময় বের করুন অভিবাবকরা। আপনি সময় বের করতে না পারলে শিশুদের জন্য অন্যরা সময় বের করে নেবে, আর এর প্রভাব যা হবে তা আপনার সন্তানের জন্য ভাল নাও হতে পারে।
“বিকশিত ভারত-রোজগার ও আজীবিক নিশ্চয়তা মিশন গ্রামীণ’ (ভিবি-জি-রাম-জি) শীর্ষক বিষয়ের উপর আলোচনা করেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক ও সমাহর্তা শ্রী অসিত কুমার দাস। শ্রী দাস বলেন, ২০০৫ সালের এমজিএনরেগায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল, যেগুলি বর্তমান ভিবি-জি-রাম-জি’তে পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান প্রদানকারী এই আইনে আগে সর্বোচ্চ ১০০ দিনের কাজ প্রদানের সংস্থান ছিল, যা নতুন আইনে ১২৫ দিনের করা হয়েছে। এর আগে ১৫ দিনে একবার শ্রমিকদের মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার সংস্থান ছিল, যা নতুন আইনে ৭ দিনের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। এছাড়া, প্রযুক্তিগত অনেক বিষয় এবং নতুন অনেক বিষয় এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ভিবি-জি-রাম-জি’তে শ্রমিকদের দুইবার বায়োমেট্রিক এর মাধ্যমে হাজিরা দিতে হবে, রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে, যা আগে ছিল না। এরফলে স্বচ্ছতা আসবে, অনেক বেশি সম্পদ সৃষ্টি হবে। শ্রী দাস আরও জানান, ভিবি-জি-রাম-জি আইনে দেশের বাকি রাজ্যগুলোতে অর্থ বরাদ্দ হবে ৬০:৪০ হারে। অর্থাৎ ৬০ শতাংশ টাকা দেবে কেন্দ্রীয় সরকার, বাকি ৪০ শতাংশ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলির জন্য অর্থ বরাদ্দ হবে যথাক্রমে ৯০:১০ শতাংশ হারে।
ড্রাগস এর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গৃহিত বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি কমিশনার শ্রী অচিন্ত্য কিলিকদার। ত্রিপুরা এক্ষেত্রে বিপজ্জনক জোনে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ড্রাগ আসক্তদের চিকিৎসার জন্য রাজ্য সরকার আট জেলায় আটটি হাসপাতাল তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
“নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন’ বিষয়ের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বাল্য বিবাহ রোধে পরিবারকে সচেতন হবার আহ্বান রাখেন শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের সদস্যা চামেলি সাহা। তিনি বলেন, এটা এখন বড় সমস্যা, যার তার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, শিশুর কাছে প্রথম বিদ্যালয় হল পরিবার। সোস্যাল মিডিয়ার যুগে পিতামাতারা যেভাবে শিশুর হাতে মো্বাইল তুলে দিচ্ছেন তা অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
“বন্দেমাতরম’ এর ১৫০ বছর পূর্তির উপর আলোচনা করেন রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপ অধিকর্তা দেবাশিস লোধ। তিনি বলেন, আমাদের দেশ, ঐক্য, সংস্কৃতি সবকিছুকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে রচিত জাতীয় গীতি “বন্দেমাতরম’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনোত্তর কালের সবচেয়ে চর্চিত এবং ভূমিকা গ্রহণকারী তিনটি বইয়ের মধ্যে একটি ছিল এই আনন্দমঠ।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কথা উল্লেখ করে আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে যে বিকশিত ভারত এর রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন তারই অংশ হিসেবে দেশের নারী, শিশু ও যুবকদের ক্ষমতায়ন, কৃষকদের উন্নতি সবকিছু হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পগুলি সম্পর্কে রাজ্যের মানুষদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে জেলা ও মহকুমাস্তরেও এই ধরণের আলোচনা আয়োজন করার জন্য আহ্বান রেখেছেন তিনি। উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এদিনের এই র্বাতালাপ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

