বারামতিতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন

মুম্বাই, ২৯ জানুয়ারি :পুণে জেলার বারামতিতে বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্যে তাঁর পুত্র পার্থ ও জয় মুখাগ্নি দেন।

বারামতির বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পাওয়ার, বিজেপি সভাপতি নীতিন নাবিন, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার (রাজ্যসভার সাংসদ), তাঁদের পুত্র পার্থ ও জয়, কাজিন সুপ্রিয়া সুলে (বারামতি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ), এনসিপির কার্যনির্বাহী সভাপতি ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রফুল্ল প্যাটেল প্রমুখ।

অজিত পাওয়ারের মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়া অবস্থায় কাতেওয়াড়ি গ্রাম থেকে বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে আনা হলে হাজারো মানুষ অজিত দাদা অমর রহে স্লোগানে শ্রদ্ধা জানান। অমিত শাহ, নীতিন গডকরি, নীতিন নাবিন, দেবেন্দ্র ফড়নবিস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটাওয়ালে, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত, একনাথ শিন্ডে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্ডে ও অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী নারালোকেশসহ একাধিক নেতা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বারামতির পুন্যশ্লোক অহিল্যাদেবী হাসপাতাল থেকে অজিত পাওয়ারের মরদেহ তাঁর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটি টেবিলটপ এয়ারস্ট্রিপের প্রান্ত থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে ভেঙে পড়ে আগুন ধরে যায় বলে জানা গেছে।

এই দুর্ঘটনায় আরও নিহত হন পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর (১৫,০০০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা), কো-পাইলট ক্যাপ্টেন শম্ভাবী পাঠক (১,৫০০ ঘণ্টা), ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিদিপ যাদব এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালি। তাঁদের মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।

পুলিশ দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। সরকার বুধবার দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে জানানো হয়, খারাপ দৃশ্যমানতার কারণে একবার ‘গো-অ্যারাউন্ড’ করার পর অবতরণের ছাড়পত্র দেওয়া হলেও বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে কোনো ‘রিড-ব্যাক’ দেয়নি এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ারস্ট্রিপের প্রান্তে আগুন ধরে যায়।

বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানায়, লিয়ারজেট বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ (ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার) উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave a Reply