নয়াদিল্লি, ২৭ জানুয়ারি : নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে “খুনি ফ্যাসিস্ট, সুদখোর, অর্থপাচারকারী, ডাকাত ও বিশ্বাসঘাতক” বলে অভিহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামি লিগের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।
৫ অগস্ট ২০২৪-এ ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা বর্তমান পরিস্থিতিকে “জাতির আত্মার কলঙ্ক” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। তারপর থেকেই বাংলাদেশ এক “ভয়ের যুগে” প্রবেশ করেছে, যেখানে গণতন্ত্র নির্বাসিত, মানবাধিকার লঙ্ঘিত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে, নারী ও কন্যাশিশুর উপর নির্যাতন বেড়েছে এবং সংখ্যালঘুরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন।
দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর অতল গহ্বরের প্রান্তে দাঁড়িয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশ আজ চরমপন্থী ও বিদেশি শক্তির আঘাতে রক্তাক্ত। গোটা দেশ যেন এক বিশাল কারাগার, হত্যাক্ষেত্র ও মৃত্যুর উপত্যকা।”
ইউনূস প্রশাসনকে নিশানা করে শেখ হাসিনার দাবি, বর্তমান সরকার দেশের জমি ও সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করার ষড়যন্ত্র করছে, যার ফলে বহুজাতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তিনি ইউনূসকে “ক্ষমতালোভী ও দুর্নীতিগ্রস্ত” বলেও আক্রমণ করেন।
আওয়ামি লিগকে স্বাধীন বাংলাদেশের “সবচেয়ে পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দলই গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও সংবিধানের রক্ষক। হতাশ না হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই “বিদেশি পুতুল সরকারকে” উৎখাত করার ডাক দেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
ভাষণে ইউনূস প্রশাসনের কাছে শেখ হাসিনা পাঁচ দফা দাবি তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে বর্তমান প্রশাসন অপসারণ, রাস্তায় হিংসা ও নৈরাজ্য বন্ধ, সংখ্যালঘু, নারী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করে বিচারব্যবস্থার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং গত এক বছরের ঘটনাবলি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত।
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক সমাজ আপনাদের পাশে রয়েছে। একসঙ্গে আমরা আওয়াজ তুলব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব।” নির্বাচনের মুখে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

