আগরতলা, ২৭ জানুয়ারি: নিখোঁজ ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে পাওয়ার আশায় বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়লেন এক বৃদ্ধ মা। চোখের জলে করজোড়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে আবেদন জানালেন তিনি।
ঘটনাটি সাব্রুম মহকুমার সাতচাঁদ আরডি ব্লকের অন্তর্গত মাগুরছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়ার। এলাকার মৃত হারাধন দেবনাথের একমাত্র ছেলে প্রদীপ দেবনাথ (৩৫+) গত ১৭ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ। প্রদীপ দেবনাথ পেশায় অন্যের রাবার বাগানে রাবারের কষ সংগ্রহ করতেন। এই কাজই ছিল তার পরিবারের একমাত্র জীবিকা। স্ত্রী, এক সন্তান এবং বৃদ্ধ মা–বাবাকে নিয়ে তার একটি সুখী সংসার ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ১৭ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ছয়টা নাগাদ প্রদীপ বাড়ি থেকে রাবার গাছের কষ সংগ্রহ করতে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের লোকজন প্রথমে আত্মীয়-পরিজনদের বাড়িতে খোঁজ নেন এবং বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালান। কোনও সন্ধান না পেয়ে অবশেষে ১৯ জানুয়ারি মনুবাজার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
আজ প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত প্রদীপ দেবনাথের কোনও খোঁজ মেলেনি। এরই মধ্যে পরিবারের কাছে একটি ফোন কল আসে বলে অভিযোগ। নিখোঁজ প্রদীপ দেবনাথের মামা তপন দেবনাথ জানান, ৭৫৮৬০১৪৯২৬ নম্বর থেকে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে বহির্রাজ্য তথা আসামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। সে জানায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাঠালে ট্রেনের টিকিট কেটে প্রদীপকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করে দেবে। ছেলের আশায় পরিবার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে টাকা পাঠায়। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরই ওই নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় পরিবার আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা মহকুমা সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হন। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নিখোঁজ প্রদীপ দেবনাথের বৃদ্ধ মা ভানুমতী দেবনাথ কান্নায় ভেঙে পড়েন। বুক ফাটা আর্তনাদে, চোখের জলে ভাসিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে করজোড়ে আবেদন জানান, যেন তাঁর নিখোঁজ ছেলেকে দ্রুত খুঁজে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
এখন প্রশ্ন, এই মর্মান্তিক ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী।

