আগরতলা, ২৭ জানুয়ারি : সপ্তাহে পাঁচ দিনের কাজের দাবিতে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ)-সহ একাধিক ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনের তরফ থেকে আজ দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ত্রিপুরাটও অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে।
যদিও বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে এই ধর্মঘটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকায় ব্যাপক সমস্যায় পড়েন গ্রাহকরা। টাকা তোলা, জমা দেওয়া, চেক ক্লিয়ারেন্স-সহ একাধিক জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, টানা কয়েক দিনের ব্যাঙ্ক ছুটির পর এই ধর্মঘট গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়। শুক্রবার সরস্বতী পুজো, শনিবার চতুর্থ শনিবার, রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবস এই চার দিনের ছুটির পর মঙ্গলবারও ব্যাঙ্ক ধর্মঘট হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়েন।
এদিকে, ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নস-এর অন্তর্ভুক্ত নয়টি ইউনিয়ন ও অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের নোটিস জারি করা হয়েছে। নোটিস অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউএফবিইউ সূত্রে জানানো হয়েছে, ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা এবং বাকি শনিবারগুলিকে ব্যাঙ্ক ছুটি ঘোষণা-সহ একাধিক দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
এছাড়াও নিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা চালু, কর্মীদের জন্য পিএলআই দ্রুত কার্যকর করা, পেনশন হালনাগাদ, বেসরকারি ব্যাঙ্কের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের এক্স-গ্রেশিয়া প্রদান এবং আইবিএ-র প্রতিশ্রুত অবশিষ্ট সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের দাবিও তোলা হয়েছে।
নোটিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া, তিনটি আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একত্রীকরণ এবং ভারতীয় আর্থিক ব্যবস্থার বিদেশিকরণের বিরোধিতাও এই আন্দোলনের অন্যতম কারণ।
এদিকে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্মঘট চলাকালীন সীমিত পরিষেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে পরিস্থিতির কারণে শাখা ও দপ্তরে স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে গ্রাহকদের ধর্মঘটের আগেই প্রয়োজনীয় ব্যাঙ্কিং লেনদেন সেরে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জরুরি নগদের প্রয়োজনে এটিএম ও অনলাইন বা ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হতে পারে, তার জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আগাম দুঃখপ্রকাশ করেছে।

