ওডিশা বন্‌ধে আংশিক প্রভাব, জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে

ভুবনেশ্বর, ২৭ জানুয়ারি: কৃষকদের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে নবনির্মাণ কৃষক সংগঠন (এনএনকেএস) বুধবার ওডিশা বন্‌ধের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত এই বন্‌ধ পালন করা হবে। বন্‌ধের জেরে রাজ্যের একাধিক জনপরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স এবং ওষুধের দোকানের মতো জরুরি পরিষেবাকে বন্‌ধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এনএনকেএসের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—সরকারি মান্ডিতে ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ৮০০ টাকা ইনপুট সহায়তা অবিলম্বে প্রদান, ধান সংগ্রহ ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগী ও মিলারদের ভূমিকা বন্ধ করা। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উপর স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা, দূষণ সার্টিফিকেট (পিইউসি) প্রয়োগে যানবাহন মালিকদের উপর অতিরিক্ত জরিমানার প্রতিবাদও সংগঠনের দাবির তালিকায় রয়েছে।

এছাড়া, ২০০৫ সালের মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এমজিএনআরইজিএ) বদলে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জি র‍্যাম-জি চালুর প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি।

এনএনকেএসের আহ্বায়ক অক্ষয় কুমার জানিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থে এই বন্‌ধ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে এতে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওডিশা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (ওপিসিসি) এই বন্‌ধকে সমর্থন জানিয়েছে। ওপিসিসি সভাপতি ভক্ত চরণ দাস এক বিবৃতিতে বলেন, এনএনকেএস যে দাবিগুলি তুলেছে, সেগুলি নিয়েই কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সেই কারণেই ২৮ জানুয়ারি ডাকা বন্‌ধকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জেলা স্তরের সংগঠনগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি এই বন্‌ধকে ‘ভুয়ো আন্দোলন’ বলে কটাক্ষ করেছে। দলের মুখপাত্র মনোজ মহাপাত্র বলেন, “ওডিশায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এনএনকেএস ভুয়ো কৃষক আন্দোলন করছে। দুর্বল হয়ে পড়া কংগ্রেস এই বন্‌ধকে সমর্থন করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।” তাঁর দাবি, এই বন্‌ধের তেমন কোনও প্রভাব রাজ্যে পড়বে না।

প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি না হলেও, বন্‌ধ ঘিরে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।