চিনের শীর্ষ সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে আমেরিকায় পরমাণু তথ্য পাচারের অভিযোগ

বেইজিং, ২৬ জানুয়ারি : চিনের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক, শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে আমেরিকায় দেশের গোপন পরমাণু তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, লিউ ছাড়াও আরও এক শীর্ষ সেনা আধিকারিক ঝাং ইউশিয়াও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা, সরকারের শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করা, এবং সেনাবাহিনীর ঐক্যে ফাটল ধরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরমাণু অস্ত্রের অত্যন্ত গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য পাচার করেছেন, যা আমেরিকায় পৌঁছেছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর শোরগোল শুরু হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং লিউকে আটক করা হয়েছে, তবে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

চিনের সামরিক বাহিনীর মুখপত্র পিএলএ ডেইলি জানিয়েছে, লিউ ও ঝাং চিনের কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধী হিসেবে কাজ করছিলেন, এবং তাঁদের কার্যকলাপ দলীয় শৃঙ্খলার বিরোধী ছিল। সূত্র জানায়, ২০১২ সালে শি জিনপিং চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বেসর্বা হওয়ার পর থেকেই তিনি সেনাবাহিনীকে দলের অনুশাসন মেনে চলতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

ঝাং ইউশিয়াও, যিনি শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ছোটবেলার পরিচিতি, সম্প্রতি চীন সরকার দ্বারা আটক হয়েছেন। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত চিনের সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ঝাং এবং লিউ দু’জনেই দলের শৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রীয় আইন ভেঙেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ঝাং ইউশিয়াওয়ের বিরুদ্ধে পরমাণু তথ্য পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গু জুন নামে এক প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার, যিনি চিনের চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার কর্প সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই ঝাংয়ের নাম সামনে আসে। গু জুনের বিরুদ্ধে তদন্তের সময়ে চিনের পরমাণু সেক্টরে ঝ্যাংয়ের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি ফাঁস হয়েছে।

ঝাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক চক্র তৈরি করে কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা করেছিলেন।

এদিকে, তদন্তের নির্দেশের পর চিনের সেনাবাহিনীর শীর্ষ স্তরে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, “চিনের সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এই ধরনের পদক্ষেপ অভূতপূর্ব।” শি জিনপিং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন। এই টাস্ক ফোর্স ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ঝাং ইউশিয়াওর কার্যকলাপ খতিয়ে দেখবে।

এদিকে, শি জিনপিংয়ের প্রশাসন দুর্নীতি এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরিচিত। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তার শীর্ষপদে থাকা সত্ত্বেও, চীন সরকার কোন ধরনের রেয়াত করবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় চিনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত যখন একদিকে পরমাণু তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে সেনাবাহিনীর ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শি জিনপিং এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেন।

Leave a Reply