নরসিংদী, ২৫ জানুয়ারি : বাংলাদেশে ফের এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে খুন করার ঘটনা ঘটেছে। মৃত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩)। তিনি কুমিল্লার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২৩ জানুয়ারি গভীর রাতে নরসিংদীতে একটি গাড়ি ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় দুষ্কৃতীরা ওই ওয়ার্কশপে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওয়ার্কশপে থাকা জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে চঞ্চল পুড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে, যাতে দেখা গেছে, কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোকানের শাটারে আগুন ধরাচ্ছিল। পুলিশ এখন সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে চেষ্টা করছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কোন সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়নি।
এটি ছিল বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ঘটে যাওয়া আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এর আগে, দীপু চন্দ্র দাস সহ অন্তত ১০ জন হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে বা নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ২ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের উপর হামলা ও খুনের ঘটনা বাড়তে থাকে।
গত ১২ জানুয়ারি ফেনি-তে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছর বয়সী এক অটোচালক খুন হন। এর আগে, ১০ জানুয়ারি সিলেট-এ খুন হন জয় মহাপাত্র। ৫ জানুয়ারি যশোর-এ গুলি করে খুন করা হয় হিন্দু ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক রানাপ্রতাপ বৈরাগী-কে। একই দিনে ঢাকা পার্শ্ববর্তী নরসিংদী-তে খুন হন শরৎ চক্রবর্তী মণি নামক এক হিন্দু ব্যবসায়ী।
এছাড়া, গত বছরের ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডল-এর খুনের ঘটনাও আলোচনায় ছিল।
বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত বিচার ও হিংসার প্রতিবাদে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে যে, হত্যার ঘটনাগুলির তদন্ত চলছে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।

