নয়াদিল্লি, ২৫ জানুয়ারি: জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের MY Bharat স্বেচ্ছাসেবক ও তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে এক চিঠিতে ভোটার হওয়ার মুহূর্তকে উদযাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে একজন ভোটার হওয়া হলো “সবচেয়ে বড় অধিকার এবং দায়িত্ব”।
প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আহ্বান জানান, যাতে শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার যোগ্য হলে সেই গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোনটি বিশেষভাবে উদযাপন করা হয়।
চিঠিতে মোদি লেখেন, “জাতীয় ভোটার দিবসে তোমাকে, তোমার পরিবার ও বন্ধুদের জানাই শুভেচ্ছা। ভারতীয় গণতন্ত্র নিয়ে গর্বিত একজন নাগরিক হিসেবে তোমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।”
তিনি বলেন, ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলা হয়, তবে একই সঙ্গে ভারত ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলেও গর্ব করা হয়। “শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের সভ্যতায় গণতন্ত্র, বিতর্ক ও সংলাপ গভীরভাবে প্রোথিত,” উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, এ বছর ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ৭৫ বছর পূর্তি—যা শুরু হয় ১৯৫১ সালে এবং শেষ হয় ১৯৫২ সালে। তাঁর মতে, এই নির্বাচন ভারতীয় জনগণের অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক চেতনার প্রমাণ বহন করে।
মোদি বলেন, “একজন ভোটার হওয়া গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় অধিকার ও দায়িত্ব। ভোট দেওয়া একটি পবিত্র সাংবিধানিক অধিকার এবং ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশগ্রহণের চিহ্ন। ভোটারই আমাদের উন্নয়নের যাত্রার ভাগ্যবিধাতা। আঙুলে লাগানো সেই অমোচনীয় কালি গণতন্ত্রকে প্রাণবন্ত রাখার সম্মানের ব্যাজ।”
প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মুহূর্ত তাদের জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। “প্রথমবারের ভোটারদের এমনভাবে স্বাগত জানানো উচিত, যেন তারা দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষমতাধর নাগরিক,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, পরিবার ও আবাসিক এলাকায় নতুন ভোটারদের সম্মান জানিয়ে মিষ্টি বিতরণসহ নানা উপায়ে উদযাপন করা যেতে পারে। স্কুল ও কলেজগুলোকেও তিনি ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের নার্সারি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা ভোটার হওয়ার বয়সে পৌঁছালে অনুষ্ঠান আয়োজন করে তাদের বিশেষ অনুভব করানো উচিত। পাশাপাশি, প্রতিটি যোগ্য তরুণ-তরুণী যাতে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে, সে ব্যাপারেও ক্যাম্পাসগুলো ভূমিকা নিতে পারে।
ভারতের ভোটারদের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “বিশ্বের কাছে আমাদের নির্বাচন একটি বিশাল লজিস্টিক সাফল্য। কিন্তু আমাদের কাছে নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব।” তিনি উল্লেখ করেন, হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চল, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, মরুভূমি বা ঘন জঙ্গল—যেখানেই হোক না কেন, মানুষ ভোট দিতে এগিয়ে আসেন।
নারী শক্তির ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “তাদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ ভারতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে,” বলেন তিনি।
MY Bharat প্ল্যাটফর্মে তরুণদের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি সেবা ও নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। “তোমরা এমন এক প্রজন্ম, যারা অপেক্ষা না করে ‘ক্যান-ডু’ মনোভাব নিয়ে কাজ করে। তোমরাই ভোটার হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াতে পারো।”
চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চলুন আমরা সবাই মিলে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে এবং উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর ভারত গড়তে সংকল্পবদ্ধ হই। আবারও জাতীয় ভোটার দিবসের শুভেচ্ছা।”

