আগরতলা, ২৪ জানুয়ারি : জী রাম জী প্রকল্পকে সর্বোতভাবে স্বার্থক করার লক্ষ্যে আজ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিজেপি প্রদেশ কার্য্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যভিত্তিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মণ সহ অন্যান্যরা।
উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ভারতকে শক্তিশালী না করে বিকশিত ভারত গঠন সম্ভব নয়। বিকশিত ভারত জী রাম জী বিল গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে কেবল মজুরিভিত্তিক নয়, দক্ষতা, জীবিকা এবং উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলবে। এই বিলের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবসমাজ, নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাবে।”
কার্যশালায় বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যী। তিনি বলেন, বিকশিত ভারত জী রাম জী প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। এটি গ্রামকে কেবল শ্রমের উৎস নয়, বরং উৎপাদন, উদ্যোগ এবং স্বনির্ভরতার কেন্দ্রে পরিণত করবে। কৃষি, পশুপালন, মৎস্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র শিল্প—সব ক্ষেত্রেই এই প্রকল্প নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
কার্যশালার শেষ পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে গ্রামীণ সচেতনতা অভিযান চালানোর রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বুথ স্তর থেকে পঞ্চায়েত, মণ্ডল ও জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠিত প্রচারের মাধ্যমে এই প্রকল্পকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। গ্রামীণ মানুষকে শুধু উপকারভোগী হিসেবে নয়, এই উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন তার বক্তব্যে বলেন, বিকশিত ভারত জী রাম জী শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি গ্রামীণ ভারতের ভবিষ্যৎ বদলের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই সুযোগ সফল হবে, যখন আমরা প্রত্যেকটি গ্রামে, প্রত্যেকটি পরিবারে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও উপকারিতা পৌঁছে দিতে পারব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মনরেগা গ্রামীণ মানুষকে বাঁচিয়েছে, আর বিকশিত ভারত জী রাম জী গ্রামীণ মানুষকে গড়ে তুলবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম কেবল শ্রমের জায়গা নয়, উৎপাদন, উদ্যোগ ও আত্মনির্ভরতার কেন্দ্রে পরিণত হবে। বিকশিত ভারতের স্বপ্ন তখনই বাস্তব হবে, যখন দেশের শেষ প্রান্তের গ্রামীণ মানুষও সম্মানজনক কাজ, স্থায়ী জীবিকা এবং আত্মনির্ভরতার সুযোগ পাবে। সেই লক্ষ্যেই আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
কার্যশালায় উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী বিকশিত ভারত জী রাম জী প্রকল্পকে বিকশিত ভারত গঠনের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সর্বস্তরে এই প্রকল্পের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

