দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষা অপরিহার্য: রতন লাল নাথ

আগরতলা, ২৪ জানুয়ারি: দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে মানসম্মত শিক্ষার কোনও বিকল্প নেই। একই সঙ্গে, শেখা, জীবনযাপন ও কার্যকলাপ, এই তিনটির সমন্বয় ঘটলেই প্রকৃত সাফল্য আসে। বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ পশ্চিম জেলার লেফুঙ্গায় অবস্থিত সিনড ফাউন্ডেশন স্কুলের রজতজয়ন্তী (২৫ বছর পূর্তি) অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এই কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সিনড ফাউন্ডেশন স্কুলের এই রজতজয়ন্তী শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের ২৫ বছরের যাত্রাই নয়, বরং শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক বিকাশের এক গৌরবময় অধ্যায়।

তিনি বলেন, রজতজয়ন্তী শুধু অধ্যবসায়ের প্রতীক নয়, এটি মূল্যবোধ ও দূরদৃষ্টির প্রতিফলন। আজ আমরা যখন পেছনে তাকাই, তখন সেই সব প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টাদের স্মরণ করি, যাঁরা এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং চরিত্র গঠন, সহানুভূতি, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই দীর্ঘ পথচলা সম্ভব হয়েছে শিক্ষকদের অবিচল নিষ্ঠা ও ত্যাগের জন্য।
তিনি শিক্ষকদের এই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্যের স্থপতি হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর কথায়, শিক্ষকরা শুধু শিক্ষক নন, তাঁরা অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও আদর্শ হিসেবেও নিজেদের ভূমিকা পালন করেছেন।

রতন লাল নাথ বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে আমি বলতে চাই যদি আমরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই, তাহলে মানসম্মত শিক্ষা অপরিহার্য। গত ২৫ বছরে এই বিদ্যালয় শুধু শিক্ষা প্রদান করেনি, বরং ঐক্য, অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক সম্প্রীতিও গড়ে তুলেছে, যা আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আমি শুধু সারিতে বসে থাকা ছাত্রছাত্রীদের দেখি না। আমি দেখি আগামীর বিজ্ঞানী, শিল্পী, শিক্ষক, চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ, নেতা ও উদ্ভাবকদের। অনেকেই মনে করো, বেশি নম্বর পেলেই সাফল্য। কেউ ভাবো খেলাধুলা, গান বা শিল্পকলায় পারদর্শী হওয়াই সাফল্য। কিন্তু মনে রেখো, শেখা, জীবনযাপন ও কার্যকলাপ—এই তিনটি একসঙ্গে চললেই প্রকৃত সাফল্য আসে।

জীবনের সঙ্গে তুলনা টেনে মন্ত্রী বলেন, জীবন একটি খাতার মতো। এর প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা ঈশ্বর লিখে রেখেছেন, মাঝের পাতাগুলো ফাঁকা। সেই পাতাগুলো আমাদের ভালোবাসা, ঐক্য ও কর্ম দিয়ে ভরতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পড়াশোনা শুধু পরীক্ষা বা নম্বরের জন্য নয়। পড়াশোনা শেখায় কীভাবে ভাবতে হয়, প্রশ্ন করতে হয়, সমস্যা সমাধান করতে হয় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। কখনও বলবে না—‘আমি পড়াশোনায় দুর্বল।’ বলবে—‘আমি শিখছি, আমি আরও ভালো করব।’ মনে রেখো, ধীরে এগোনোও অগ্রগতি।”

স্বামী বিবেকানন্দের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সমস্ত শক্তি তোমার মধ্যেই রয়েছে। তুমি যা চাইবে তাই করতে পারবে। এমন শিক্ষা প্রয়োজন, যা মানুষকে আত্মনির্ভর ও স্বনির্ভর করে তোলে।”

মন্ত্রী বলেন, সহশিক্ষামূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সময় ব্যবস্থাপনা শিখে।

তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে জয়কে বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করা ও পরাজয়কে সাহসের সঙ্গে মেনে নেওয়া শেখা যায়। মঞ্চে পারফর্ম করলে ভয় কাটে। অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের অজানা প্রতিভা আবিষ্কার হয়। জীবন কখনও বই আর মাঠের মধ্যে বেছে নেওয়ার নাম নয়। তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক ও সুস্থ শরীর মিলেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী ভবিষ্যৎ।”

শেষে তিনি বলেন, ব্যর্থতাকে ভয় পেয়ো না। একটি খারাপ ফলের জন্য হাল ছেড়ো না। যাঁদের আজ তোমরা আদর্শ মনে করো, তাঁরাও একদিন তোমাদের মতোই শ্রেণিকক্ষে বসেছিল। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, শিক্ষকদের সম্মান করো, বন্ধুদের পাশে দাঁড়াও, বড় স্বপ্ন দেখো এবং সৎভাবে পরিশ্রম করো। তোমাদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য দিয়ে নয়, পরিশ্রম দিয়েই লেখা হয়।”

Leave a Reply