উধমপুর, ২৩ জানুয়ারি : উধমপুর থেকে বেসামরিক বিমান পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যেই উধমপুর থেকে যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উধমপুরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের সভাপতিত্ব করে তিনি এই তথ্য জানান।
আকাশবাণী সংবাদদাতা জানায়, বৈঠকে মন্ত্রী জানান যে প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতীয় বায়ুসেনার স্টেশনে অবস্থিত একটি অস্থায়ী টার্মিনাল ভবন থেকেই বিমান চলাচল শুরু হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর গড়ে তুলতে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এই ক্ষেত্রে ওমর আবদুল্লাহ নেতৃত্বাধীন জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জিতেন্দ্র সিং বিমান পরিষেবা চালু করার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনা ও এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া -এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সচিব সমীর কুমার সিনহা, জম্মু ও কাশ্মীরের অসামরিক বিমান পরিবহণ সচিব নবীন এস এল, এএআই-এর চেয়ারম্যান বিপিন কুমার, জম্মু বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (প্ল্যানিং) নন্দিতা ভট্ট সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বপ্রাপ্ত জিতেন্দ্র সিং জানান, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ নজরদারিতে চেনাব অঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই অঞ্চলে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠকের ফলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
বিমান যোগাযোগ উন্নত হলে চেনাব অঞ্চলের চারটি জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ আরও গতি পাবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, উড়ান প্রকল্পের আওতায় কিশতওয়ারেও অনুরূপ সংযোগ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র উধমপুরকে উল্লেখ করে জিতেন্দ্র সিং বলেন, অঞ্চলটি দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে, যেখানে আকাশ, রেল ও সড়কপথের সংযোগ একসঙ্গে বিকশিত হচ্ছে। তিনি জানান, উধমপুর রেলওয়ে স্টেশনকে ‘অমৃত স্টেশন’ হিসেবে উন্নত করা হয়েছে এবং এক্সপ্রেস করিডরের মাধ্যমে দিল্লি ও অন্যান্য প্রধান শহরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও সুবিধাজনক হচ্ছে।

