সিলেটে জনসভা দিয়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন তারেক রহমান

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এক বিশাল জনসভা থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করেন। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৪২ কিলোমিটার দূরের এই জনসভায় বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মাসে খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের আবেগকে সামনে রেখেই ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে বিএনপি। দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকার পর গত মাসেই দেশে ফেরেন তারেক রহমান।

ডিসেম্বর ২০২৫-এ দেশে ফেরার পর এই প্রথম রাজধানীর বাইরে কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিলেন তিনি। সিলেটের জনসভায় তারেক রহমান বেকারত্ব, কৃষকদের সমস্যা এবং আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক বিদেশনীতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। পরোক্ষভাবে ভারতের নাম উল্লেখ না করে ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি “অন্য দেশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন”।

বিদেশনীতিতে নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান স্লোগান দেন— “নট দিল্লি, নট পিন্ডি, বাংলাদেশ বিফোর এভরিথিং।”

এদিন তিনি জামায়াতে ইসলামীকেও আক্রমণ করেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে থাকার অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, “তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”

সিলেটের পর পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে টানা সাতটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যানের।

উল্লেখ্য, দুই বছর পর বাংলাদেশে ফের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে ফের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজেদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। ঢাকার মিরপুরে, জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সংসদীয় আসন ঢাকা-১৫ এলাকায় এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শফিকুর রহমান-সহ ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।

এবারের নির্বাচনের সঙ্গে থাকছে ‘জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোট। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে প্রচার চালাতে চাইছে। সরকার দাবি করেছে, এই সনদ সংস্কারভিত্তিক এক নতুন রাজনৈতিক পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। গত বছর দেশের ৫২টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৫টি দল এই সনদে স্বাক্ষর করে। তবে আওয়ামি লিগ এর বিরোধিতা করেছে এবং আরও কয়েকটি দল এতে সই করেনি।

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নামের এই দলিলটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানের নামানুসারে তৈরি, যার জেরেই শেখ হাসিনার পতন ঘটে। বর্তমানে এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে সমর্থকদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে এটিকে সংবিধানের অংশ করতে হবে। যদিও সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা একমাত্র সংসদের হাতেই রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্য, এই সনদ কার্যকর হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং কর্তৃত্ববাদী শাসন এড়ানো সম্ভব হবে। প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, সাংসদদের মেয়াদসীমা নির্ধারণ, স্বার্থের সংঘাত রোধ, অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

Leave a Reply