বেঙ্গালুরু, ২২ জানুয়ারি: রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাত এবার কর্নাটকে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই ক্ষুব্ধ অবস্থায় অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। তাঁর এই আচরণ ঘিরে বিধানসভার ভিতরে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। গোটা ঘটনায় রাজ্যপালের কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যপাল সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়েই তিনি বিধানসভায় পৌঁছন। তবে মাত্র দু’টি লাইনের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেই তিনি সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। রাজ্যপাল হিন্দিতে বলেন,
“আমার সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির গতি দ্বিগুণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জয় হিন্দ, জয় কর্নাটক।”
রাজ্যপাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণের ১১টি অনুচ্ছেদ নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। ওই অনুচ্ছেদগুলিতে ‘বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা সংক্ষেপে জিরামজি আইন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করা হয়েছিল। রাজ্যপালের দাবি, ভাষণের এই অংশগুলি রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। সেই কারণেই সম্পূর্ণ ভাষণ পাঠ না করে তিনি বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যান।
রাজ্যপাল বেরিয়ে যেতেই বিধানসভার ভিতরে শুরু হয় প্রবল হট্টগোল। অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ধাক্কাধাক্কিও হয়। কংগ্রেস বিধায়ক বি কে হরিপ্রসাদ রাজ্যপালকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে শাসক কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন,
“রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের পুতুলের মতো কাজ করেছেন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই মোদি সরকার রাজ্যপালকে দিয়ে তাদের তৈরি করা ভাষণ পড়াতে চেয়েছিল। রাজ্যপাল সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।”
উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে তামিলনাড়ুতে। গত মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম দিনেই ভাষণ না দিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বেরিয়ে যান রাজ্যপাল এন রবি। তাঁর অভিযোগ ছিল, জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করেছে ডিএমকে সরকার এবং বক্তৃতার সময় তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন বলেছিলেন, “ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজ্যপাল এমন আচরণ করেছেন।”
কর্নাটকের সাম্প্রতিক ঘটনাও ফের একবার রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল।

