ভারতের এআই মিশনের পাঁচস্তর কাঠামো তুলে ধরলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

দাভোস, ২২ জানুয়ারি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বুধবার জানান, ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মিশন একটি সুস্পষ্ট পাঁচস্তরীয় কাঠামোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে, যা ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী শিল্পনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

চলমান এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বৈষ্ণব বলেন, ভারত এআই-এর সম্পূর্ণ ভ্যালু চেন জুড়ে সক্ষমতা গড়ে তুলছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই কাঠামোর প্রথম স্তর হল অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার, যেখানে বাস্তব জীবনের ব্যবহারিক প্রয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্তর হল মডেল লেয়ার, যেখানে এআই সিস্টেম তৈরি করা হয়। তৃতীয় স্তরে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ, চতুর্থ স্তর ডিজিটাল পরিকাঠামো যেমন ডেটা সেন্টার এবং পঞ্চম ও শেষ স্তর হল শক্তি বা এনার্জি।

মন্ত্রী বলেন, পঞ্চম শিল্পবিপ্লবে শক্তি একটি নির্ণায়ক বিষয় হয়ে উঠছে, কারণ এআই-এর বিকাশ ক্রমশ নির্ভরশীল হবে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর। শক্তি পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন পর্যন্ত ভারতের সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক এআই ইকোসিস্টেমের প্রশংসা কুড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বব্যাপী এআই ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করতে সরকারের কৌশলের কথাও তুলে ধরেন বৈষ্ণব। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রভাবের ক্ষেত্রে এআই-এর ভূমিকা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে একটি কমন কম্পিউট প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৮ হাজার জিপিইউ-এর সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

বৈষ্ণবের দাবি, এই কমন কম্পিউট সুবিধা ছাত্র, গবেষক এবং স্টার্টআপদের জন্য বিশ্ববাজারের প্রচলিত খরচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দামে উপলব্ধ। তিনি বলেন, বহু দেশে যেখানে জিপিইউ-এর ব্যবহার বড় প্রযুক্তি সংস্থার হাতে সীমাবদ্ধ, সেখানে ভারতের এই উদ্যোগ একটি বিকল্প মডেল তুলে ধরছে।

এআই নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র আলাদা আইন প্রণয়নের বদলে ‘টেকনো-লিগ্যাল’ পদ্ধতির প্রয়োজন। তাঁর মতে, উদীয়মান প্রযুক্তির জটিলতা সামাল দিতে প্রযুক্তিগত সমাধান অপরিহার্য, বিশেষ করে পক্ষপাত বা ডিপফেকের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায়। তিনি জানান, বিচারব্যবস্থার মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম ডিপফেক শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, পক্ষপাত কমানো এবং এআই মডেল ব্যবহারের আগে যথাযথ ‘আনলার্নিং’ নিশ্চিত করার দিকেও ভারত কাজ করছে।

পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের অর্থনৈতিক চরিত্র নিয়েও মন্তব্য করেন বৈষ্ণব। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে লাভজনকতা নির্ভর করবে স্কেলযোগ্য ও সাশ্রয়ী উদ্ভাবনের উপর, কেবল ব্যয়বহুল কম্পিউটিং শক্তির উপর নয়। তাঁর মতে, ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন প্যারামিটার বিশিষ্ট মাঝারি আকারের মডেল ব্যবহার করেই এআই উন্নয়নের বড় অংশ সম্ভব, যা সবসময় সবচেয়ে দামী হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন—এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

Leave a Reply