বাংলাদেশে ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গাজিপুরে হোটেল মালিক লিটন ঘোষের মৃত্যু

গাজিপুর, ১৮ জানুয়ারি: বাংলাদেশে ফের একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গাজিপুরের ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’র মালিক লিটন ঘোষের হত্যার ঘটনায় সেদেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, হোটেলের কর্মচারীকে বাঁচাতে গিয়ে লিটন ঘোষ খুন হন। এই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন মহিলা রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গাজিপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভাসংলগ্ন এলাকায় শনিবার সকাল ১১ টার দিকে একটি তুচ্ছ ঘটনার জেরে ঝগড়া শুরু হয়। তা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে রূপ নেয়, এবং এর ফলে ৫৫ বছরের লিটন চন্দ্র ঘোষের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে মোহাম্মদ স্বপন মিঞা, তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং ছেলে মাসুম মিঞাকে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মাসুম মিঞা ওই দিন সকালে হোটেলে গিয়ে রেস্তোরাঁর ১৭ বছরের কর্মী অনন্ত দাশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এই সময় মাসুমের বাবা স্বপন মিঞা ও মা মাজেদা খাতুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তারা অনন্ত দাশকে মারধর করেন। এরপরে, লিটন চন্দ্র ঘোষ পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন এবং কর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তখনই স্বপন মিঞা এবং তার পরিবার লিটনকে মারধর শুরু করেন, যা এক পর্যায়ে এমন ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, বেলচা দিয়ে লিটনের মাথায় আঘাত করা হয়। ওই আঘাতে লিটনের মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত ৩ জনকে পালানোর সুযোগ দেয়নি এবং তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে।

এছাড়াও, বাংলাদেশের পাম্পকর্মী রিপন সাহার হত্যাকাণ্ডের খবরও উঠে আসে, যিনি একটি গাড়িতে তেল ভরার পর প্রাপ্য টাকা চাওয়ায় গাড়ির মালিক তাকে পিষে হত্যা করে বলে অভিযোগ।

গত ডিসেম্বর মাসে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাংলাদেশে একাধিক হিন্দু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সেদেশের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। অমৃত মণ্ডল, রিপন সাহা সহ একাধিক যুবকের খুনের ঘটনা সবার সামনে এসেছে, এবং এসব হত্যাকাণ্ডের পর আরও একবার এল লিটন ঘোষের হত্যার খবর, যা বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply