আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি : দীর্ঘ তিন দশক নিখোঁজ থাকার পর আচমকা ফিরে এসে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলায় চাঞ্চল্য ছড়াল কমলাসাগর এলাকায়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবশেষে ভাসুর শংকর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিলেন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রিনা চক্রবর্তী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলাসাগর বিধানসভার গকুলনগর দীনদয়াল চৌমুহনী সর্বাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ক্ষীরোধ বন্ধু চক্রবর্তীর তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শংকর চক্রবর্তী একসময় কংগ্রেসের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় দাপট চালাতেন বলে অভিযোগ। ১৯৯৩ সালের আগে বাড়িঘর পোড়ানো, খুন, সন্ত্রাস, মারপিট-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যান শংকর চক্রবর্তী।
দীর্ঘদিন তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে তিনি আর জীবিত নেই। ২০০৬ সালে তাঁর মা এবং ২০০৯ সালে তাঁর বাবার মৃত্যু হলেও শ্রাদ্ধ বা শান্তির কোনো অনুষ্ঠানেই তাঁকে দেখা যায়নি। এরপর ২০১৪ সালে সারভাইভাল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ২০২১ সালে পারিবারিক আপোসে ক্ষীরোধ বন্ধু চক্রবর্তীর সম্পত্তি দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে পাঁচ ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় তিন দশক পর হঠাৎ করে ফিরে এসে শংকর চক্রবর্তী অভিযোগ তোলেন, ছোট ভাই সুকুমার চক্রবর্তীর স্ত্রী রিনা চক্রবর্তী নাকি তাঁর নামে ভুয়া ডেথ সার্টিফিকেট বের করে পিতৃসম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং রিনা চক্রবর্তীর সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়।
উল্লেখ্য, রিনা চক্রবর্তী বর্তমানে শাসকদলের কমলাসাগর মণ্ডল সম্পাদিকা। অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, শংকর চক্রবর্তীর তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, যদি আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।
এদিকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও জানান, শংকর চক্রবর্তী আইনগতভাবে যদি পিতৃসম্পত্তির অংশীদার হন, তাহলে তা তাঁকে অবশ্যই দেওয়া হবে। তবে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করে অন্যের প্ররোচনায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলার জন্য শংকর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

