আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি: সড়ক নিরাপত্তা মাস উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রচার চালানো হলেও ধর্মনগর শহরের বাস্তব চিত্রে তার প্রভাব খুব একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে দিঘির পার সংলগ্ন এলাকা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রতিদিনই ট্রাফিক আইন ভেঙে অবাধে চলাচল করছে একদল উশৃঙ্খল যুবক।
হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো, একসঙ্গে তিনজন আরোহী নিয়ে চলাচল, বিকট শব্দের মোটরবাইক চালিয়ে জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি—এসব যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই দিঘির পার এলাকায় বেআইনি বাইকের উৎপাত বেড়ে যায়। এতে স্কুল পড়ুয়া, মহিলা ও বয়স্ক মানুষদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও কার্যত কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
সড়ক নিরাপত্তা মাস চলাকালীন যেখানে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হওয়ার কথা, সেখানে এই ধরনের দৃশ্য প্রশাসনিক তৎপরতার ঘাটতিকেই সামনে আনছে। এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে ধর্মনগরের ট্রাফিক দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, অধিকাংশ সময়েই ট্রাফিক কর্মীদের দেখা যায় ধর্মনগর–কৈলাশহর প্রধান সড়কে কর্তব্যরত অবস্থায়। এছাড়াও শহরে তাঁদের উপস্থিতি মূলত সীমাবদ্ধ মিশনরোডে অবস্থিত ট্রাফিক দপ্তরের অফিসের আশপাশেই।
অথচ কালি দিঘিরপার, অফিসটিলা, থানারোড, বিবিআই স্কুল সংলগ্ন এলাকা সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন হলেও তা যেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরের বাইরে থেকেই যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলমেট না পরা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং শব্দ দূষণ—এই তিনটি বিষয়ই মারাত্মক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তবুও নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের সাহস আরও বেড়ে চলেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে তরুণদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
সড়ক নিরাপত্তা মাসের মূল উদ্দেশ্য দুর্ঘটনা কমানো ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু ধর্মনগরের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই উদ্দেশ্য কার্যত ব্যর্থ বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত টহল, হঠাৎ অভিযান এবং কঠোর জরিমানা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হবে না।
সব মিলিয়ে ধর্মনগরে সড়ক নিরাপত্তা মাস যেন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। মাঠ পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিলে এই উদ্যোগ শীতঘুমে পরিণত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়—এমনটাই মত সাধারণ মানুষের।

