আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি: পশ্চিম জেলা ভোক্তা আদালত চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পশ্চিম জেলা ভোক্তা কমিশনের প্রেসিডেন্ট তথা ভোক্তা আদালতের বিচারক গৌতম সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিদিন মদ্যপ অবস্থায় অফিসে আসা এবং আদালতের এজলাসে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বসার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কর্মচারীরা। ওই অভিযোগকে ঘিরে সরব হয়েছেন আইনজীবীরাও।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিচারক গৌতম সরকার নিয়মিতভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আদালতে আসেন। এমনকি তাঁর চেম্বারে বসেই মদ্যপান করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কর্মচারীদের দাবি, নেশার ঘোরে তিনি অফিস স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, যা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। অবশেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আদালতের কর্মী ও আইনজীবীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ আদালত চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এনসিসি থানার পুলিশ। কর্মচারী ও আইনজীবীদের একাংশ বিচারক গৌতম সরকারের অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান।
আইনজীবীদের বক্তব্য, একজন ভোক্তা আদালতের বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ একেবারেই অনভিপ্রেত এবং ন্যায়বিচারের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তাঁরা দ্রুত বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গৌতম সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলছেন, এটি মিথ্যা ও প্ররোচিত। তিনি জানান, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং তিনি সমষ্টিগতভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি তার স্বাস্থ্যের বিষয়ও উল্লেখ করেছেন। তিনি বাইপাস সার্জারি করেছেন। আমি নিয়ম এবং বিধি সম্পর্কে সচেতন। আমি আমার অফিসের ভিতরে মদ্যপান করার মতো অযৌক্তিক আচরণ করব না।

