আধুনিকীকরণ হলেও আমাদের মূল পরিচয় ভুলে যাওয়া যাবে না: মন্ত্রী রতন লাল নাথ

আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি: শীতের আনন্দ আর ফসলের নতুন হাসির সঙ্গে মিলিত হয়ে এসেছে পিঠে-পুলি উৎসব। এই উৎসব শুধুই আনন্দের নয়; এটি সামাজিক সংহতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং কৃষিভিত্তিক ভারতীয় জীবনধারার এক প্রতীক। আজ বল্লভপুর স্কুল প্রাঙ্গণে পিঠে পুলি  উৎসবের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন  কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

মন্ত্রী বলেন পিঠে-পুলি উৎসব কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান নয়। এটি কৃষিভিত্তিক জীবনধারা, প্রথা ও সংস্কৃতির ফল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এটি বিভিন্ন নামে উদযাপিত হয়। এটি উত্তরায়ণ যাত্রার সূচনা এবং কৃষক পরিবারের নতুন ফসলের আনন্দ উদযাপনের এক বিশেষ মুহূর্ত। মূল লক্ষ্য কৃষি ও কৃষকের সাফল্যকে কেন্দ্র করে।

মন্ত্রী আরও বলেন শীতকাল প্রকৃতির রূপান্তরের সময়। সোনালি ফসল, উজ্জ্বল আকাশ এবং উৎসবমুখর মানুষের উপস্থিতি এই সময়কে বিশেষ করে তোলে। আমরা এই সময়ে পিঠে-পুলি উৎসব, নগর কীর্তন, লোকসংগীত, বাউল কীর্তন ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করি, যা হাজার বছরের সম্পর্ক, কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সংযোগকে তুলে ধরে। এটি কৃষকের শ্রমের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন।”

তিনি বলেন কৃষকরা আমাদের খাদ্যের উৎস। তারা রাতদিন পরিশ্রম করে, বৃষ্টি, রোদ ও শীতের মধ্য দিয়ে আমাদের খাবার জোগান দেয়। তারা শুধুই খাদ্য উৎপাদক নয়, বরং আমাদের সভ্যতার ভিত্তি। পিঠে-পুলি উৎসব সকলকে একত্রিত করে। বর্তমান বিশ্বও ভারতীয় প্রথা ও সংস্কৃতির দিকে চোখ রেখেছে। আমাদের দেশ হল স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি, যেখানে সবকিছুই কৃষি থেকে আসে। কৃষিই আমাদের সমাজ ও সভ্যতার মূল ভিত্তি।”

কৃষি মন্ত্রী বলেন সকলকে আধুনিক হতে হবে, কিন্তু কেউই তাদের মূল সংস্কৃতি ও পরিচয় ভুলে যাবে না। যারা সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে পারে না, তারা কখনোই প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারবে না। পিঠে-পুলি উৎসব আমাদের সমাজকে একত্রিত করে, মানবিকতা জাগায় এবং ভারতীয় সংস্কৃতি সত্যিকারের মানুষ গড়ে তোলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অদক্ষ  রাম প্রসাদ পাল, মেয়র দীপক মজুমদার সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।