ককবরক ভাষায় রোমান স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগ্রহী, দাবি তিপ্রা মথার

আগরতলা, ১৫ জানুয়ারি: ককবরক ভাষায় রোমান স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগ্রহী—মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই দাবি করল তিপ্রা মথার নেতৃত্ব। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে তিপ্রা মথা নেতৃত্ব জানায়, বুধবার তিপ্রা মথার পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ওই বৈঠকে ককবরক ভাষায় রোমান স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের বিষয়সহ একাধিক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তিপ্রা মথা নেতৃত্বের দাবি, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে ককবরক ভাষায় রোমান স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক ও আগ্রহী। এই সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার, সিবিএসই ও আইসিএসই-কে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত সেসব সংস্থার কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও মুখ্যমন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তিপ্রা মথা নেতৃত্বকে দিল্লিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার পরামর্শ দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আগামী মাসে তিপ্রা মথার একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে সিবিএসই ও আইসিএসই-র চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। তিপ্রা মথা নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ককবরক ভাষায় রোমান স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে।

এছাড়াও এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে শরিক দলের বিরুদ্ধে শাসকদলের বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরেও আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিপ্রা মথা নেতৃত্ব। তারা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এগুলি রাজনীতির বিষয়। রাজনীতির খাতিরে শরিক দলের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করা হয়। তবুও তিপ্রা মথার নেতৃত্বগণ বিভিন্ন বিস্ফোরক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ককবরক/কাউ-ব্রু ভাষার জন্য রোমান লিপি ব্যবহারের দাবিতে রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপিও পেশ করেছে তিপ্রা মথা নেতৃত্ব। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের নেতৃত্বে এই স্মারকলিপি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহার কাছে পাঠানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে তিপ্রা মথার মন্ত্রী, বিধায়ক ও এমডিসিদের স্বাক্ষর রয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ককবরক/কাউ-ব্রু ভাষার জন্য রোমান লিপি গ্রহণ করা সংবিধানসম্মত অধিকার। এতে বলা হয়, রোমান লিপি অস্বীকার করা হলে তা ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ২৯(১) ও ৩৫০এ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যেখানে মাতৃভাষা, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মারকলিপিতে উল্লেখ রয়েছে যে ১৯৭৯ সালেই ককবরক ভাষা রাজ্যের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই ককবরকভাষী জনগোষ্ঠী রোমান লিপি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে। শ্যামা চরণ ত্রিপুরা, কুমুদ কুন্ডু চৌধুরী ও পাবিত্র সরকার ভাষা কমিশনের রিপোর্টেও ককবরকের জন্য রোমান লিপির সুপারিশ রয়েছে।

স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে—ককবরকের জন্য রোমান লিপিকে সরকারি লিপি হিসেবে স্বীকৃতি, সিবিএসই, আইসিএসই ও টিবিএসই পরীক্ষায় ককবরক বিষয়ের প্রশ্নপত্র রোমান লিপিতে মুদ্রণ, সমস্ত পাঠ্যপুস্তক রোমান লিপিতে প্রকাশ এবং ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সব সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ককবরক বিষয়ের ক্ষেত্রে রোমান লিপি ব্যবহার।

এই বিষয়ে প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য বলেন, ককবরক/কাউ-ব্রু ভাষার ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থে এই ইস্যুতে সকল টিপরাসা জনপ্রতিনিধির স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। তাঁর মতে, এই প্রশ্নে নীরবতা বা দ্ব্যর্থক অবস্থান রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে ভবিষ্যতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ককবরক ভাষায় রোমান স্ক্রিপ্ট ব্যবহারের দাবি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply