২৮তম কমনওয়েলথ স্পিকার্স অ্যান্ড প্রিসাইডিং অফিসার্স কনফারেন্স, গ্লোবাল সাউথের জন্য নতুন পথ তৈরি করার গুরুত্বের উপর জোর প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি: বিশ্ব যখন অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় গ্লোবাল সাউথের জন্য নতুন পথ রচনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের সংবিধান সদনে ২৮তম কমনওয়েলথ স্পিকার্স অ্যান্ড প্রিসাইডিং অফিসার্স কনফারেন্স-এর উদ্বোধন করে তিনি বলেন, প্রতিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ ও উদ্বেগ তুলে ধরতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, ওই সময় গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকারকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছিল। তিনি জানান, ভারত শুধু নিজের নাগরিকদের জন্য নয়, কমনওয়েলথভুক্ত ও অংশীদার দেশগুলোর জন্যও উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে চায়। এই লক্ষ্যেই ভারত ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে, যাতে অন্যান্য দেশও ভারতের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের সমবায় উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলন (১৪–১৬ জানুয়ারি) লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে ৪২টি কমনওয়েলথ দেশ এবং চারটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংসদ থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৬১ জন স্পিকার ও প্রিসাইডিং অফিসার অংশ নিয়েছেন, যা-এর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সমাবেশ। আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে সংসদীয় কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব, নির্বাচনের বাইরেও নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সাংসদ ও কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভারতের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংসদ-সংক্রান্ত তথ্য ও সম্পদের সাহায্যে একটি ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগে সহায়তা করছে।

প্রিসাইডিং অফিসার ও স্পিকারদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মোদি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণকে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁরা সেই দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করছেন।

বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বকালে জলবায়ু ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন গ্লোবাল সাউথের জন্য নির্মাণের সময়। ভারত প্রতিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ জোরালোভাবে তুলে ধরছে এবং নিশ্চিত করছে যে আমাদের উদ্ভাবন পুরো গ্লোবাল সাউথের উপকারে আসে।”

ভারতের সাংস্কৃতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমগ্র বিশ্বই আমাদের পরিবার—এটাই আমাদের সংস্কৃতি, যা আমাদের গণতন্ত্র থেকে এসেছে।” কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ভারতের মানবিক সহায়তার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ভারত ১৫০টিরও বেশি দেশে ওষুধ ও টিকা সরবরাহ করেছে।

ভারতের গণতন্ত্রের ব্যাপ্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল মানব ইতিহাসের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক অনুশীলন। প্রায় ৯৮ কোটি ভোটার, ৮,০০০-এর বেশি প্রার্থী এবং ৭০০-এরও বেশি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। নারীদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন। বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রপতিও একজন মহিলা এবং স্থানীয় স্বশাসনে ৫০ শতাংশ নেতৃত্ব নারীদের হাতে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায়, স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম, ইস্পাত উৎপাদন, বিমান চলাচল, রেল নেটওয়ার্ক এবং কৃষিক্ষেত্রে ভারত বিশ্বনেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, কল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে উঠে এসেছে—এটাই ভারতের গণতন্ত্রের “লাস্ট মাইল ডেলিভারি”-র প্রমাণ।

লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে এবং বিশ্ব আজ ভারতের দিকে দিশা খুঁজছে। তিনি এআই -এর নৈতিক ব্যবহার, ভুয়ো তথ্য মোকাবিলা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন।

Leave a Reply