ফেনি, ১৩ জানুয়ারী: ইরানে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বর্তমানে দেশটির বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে একটি সর্বাত্মক প্রতিবাদে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনীকে অপসারণের দাবি জানিয়ে রাস্তায় নেমেছে। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে এখন এটি দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে আমেরিকা আশঙ্কা করছে যে, পরিস্থিতি হিংসাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং ইরান সরকার ব্যাপক ধরপাকড় ও সহিংসতা ঘটাতে পারে। তেহরানে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “ইরানের বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নিতে পারে, যার ফলে ধরপাকড় এবং জখমের ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তা ও গণপরিবহণ বন্ধও হতে পারে।”
এদিকে, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারি দমনপীড়নে নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীদের দমন করতে ইরান সরকার আরও কঠোর আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “যারা এই প্রতিবাদে অংশ নেবে তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।” এই অভিযোগের শাস্তি ইরানে সাধারণত মৃত্যুদণ্ড।
এমন পরিস্থিতিতে, আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরান সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনী এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে আমেরিকাকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দুনিয়ার অত্যাচারীদের শাস্তি হয়েছে, দুর্বৃত্তদের শাস্তি দেওয়া হবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের উচিত তা মনে রাখা, কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে অহংকারী শাসকদের পতন তখনই ঘটে, যখন তাদের অহংকার তুঙ্গে থাকে। আমেরিকাও সেই পথেই চলবে।”
এখনো বিক্ষোভ থামার কোনও লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় ইরান সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
—-

