নয়াদিল্লী, ১২ জানুয়ারি: উপ-রাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রাধাকৃষ্ণন বলেছেন, “স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও শিক্ষা আমাদের শিখিয়েছে আন্তরিক শক্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার গুরুত্ব, যা একটি সার্থক জীবনের মূল স্তম্ভ।” তিনি আরও বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ জাতীয় গৌরবকে জাগ্রত করেছেন এবং যুবকদের মধ্যে দেশের উন্নতির জন্য কাজ করার আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছেন।” উপ-রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অমিল কমানো, প্রান্তিক জনগণের ক্ষমতায়ন এবং দেশের প্রতিটি কোণে উন্নতি পৌঁছানো নিশ্চিত করা উচিত।”
জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ৯ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপ-রাষ্টপতি রাধাকৃষ্ণন বলেন, নয়াদিল্লীতে আজ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদানকালে উপ-রাষ্টপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন বলেছেন, “শিক্ষা শুধু চরিত্র গঠনই নয়, এটি মনকে শক্তিশালী করে এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়।” তিনি ছাত্রদের দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে আহ্বান জানান।
শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেশের যুবকদের ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শক্তিশালী করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আধুনিক এবং ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ একসাথে বিকশিত হওয়া উচিত।”
উপরাষ্ট্রপতি ভারতের ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “ভারতের ইতিহাস সবসময়ই জ্ঞানের অনুসন্ধানকে প্রেরণা দিয়েছে।” তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই উপলক্ষে বলেন, “জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য উল্লেখ করে বলেন, “জেএনইউ মানবিকতা, সামাজিক বিজ্ঞান, ভাষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো নানা বিষয়ে অগ্রগামী শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।” তিনি আরও জানান, “জেএনইউ সবসময় তার সময়ের থেকে এগিয়ে ছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনেক আগে থেকেই জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০২০ এর নীতিগুলি নিজেদের মধ্যে গ্রহণ করেছে।”

