প্রধানমন্ত্রী মোদি–জার্মান চ্যান্সেলর মের্‌জ বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা

গান্ধীনগর, ১২ জানুয়ারী: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দির কনভেনশন সেন্টারে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্‌জের সঙ্গে প্রতিনিধি-পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

চ্যান্সেলর মের্‌জের এটি ভারত সফরের প্রথম সরকারি সফর। এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ভারত–জার্মানি কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর এবং ভারত–জার্মানি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় দুই নেতা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্কিলিং ও মবিলিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও গবেষণা, সবুজ ও টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণ-থেকে-জনগণ যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন তাঁরা।

এর আগে দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদি চ্যান্সেলর মের্‌জকে সবরমতী আশ্রমে স্বাগত জানান। সেখানে দুই নেতা মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। জার্মান চ্যান্সেলর আশ্রমের দর্শনার্থী বইতেও স্বাক্ষর করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী ও চ্যান্সেলর যৌথভাবে সবরমতী রিভারফ্রন্টে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবের উদ্বোধন করেন। ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি ওড়না পরিয়ে তাঁদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। লোকসংগীত ও নৃত্যের মাধ্যমে উৎসবের রঙিন আবহ তৈরি হয়। উত্তরায়ণের আনন্দে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও চ্যান্সেলর মের্‌জ ঘুড়ি ওড়ান। প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষভাবে নকশা করা ঘুড়ি ওড়ান, যাতে লেখা ছিল— “ভারত – বসুধৈব কুটুম্বকম”।

রিভারফ্রন্ট জুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারত ও জার্মানির পতাকা হাতে উপস্থিত ছিলেন, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঘুড়ি উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ও ঐতিহ্য সম্পর্কে চ্যান্সেলর মের্‌জকে ব্যাখ্যা করতেও দেখা যায়।

বিদেশ মন্ত্রকের (এমইএ) মতে, চ্যান্সেলর মের্‌জের এই ভারত সফর নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও জার্মানির ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত হবে, যা দুই দেশের পাশাপাশি বিশ্ব সমাজের জন্যও ইতিবাচক অবদান রাখবে।

Leave a Reply