বিএলও-দের নতুন দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন, সঠিক তথ্য আপলোড করতে হবে

কলকাতা, ১১ জানুয়ারি: নির্বাচন কমিশন বুথস্তরের আধিকারিক বা বিএলও-দের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও যাঁদের সঙ্গে কোনো কারণে ম্যাপিং হয়নি, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে আপলোড করতে হবে। শুধু আপলোড করা নয়, ওই তথ্য ‘সার্টিফাই’ও করতে হবে।

কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় থাকা অনেক ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত কারণে তাঁদের ম্যাপিং হচ্ছিল না। কমিশন জানিয়েছে, এসব ভোটারদের শুনানির জন্য যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বিএলও-দের দায়িত্ব হবে, তাঁরা বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করে, সেগুলি নতুন করে আপলোড করবেন।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ৪ নভেম্বর। পশ্চিমবঙ্গে ১১ ডিসেম্বর এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ে। কমিশন জানিয়েছিল, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এছাড়াও, লক্ষাধিক ভোটারকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের তথ্য যাচাই করার জন্য শুনানির ডাক দেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় নির্বাচন কমিশনের তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় নাম ছিল এক কোটি ৩৬ লক্ষের। তবে ২ জানুয়ারি কমিশন জানায়, ওই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজারে, অর্থাৎ ৪১ লক্ষ ৫১ হাজার কমে গেছে।

অন্যদিকে, ‘নো ম্যাপিং’-এর পর ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকার তোড়জোড় শুরু করেছে কমিশন। ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ হল এমন একটি তালিকা, যেখানে একাধিক ভোটারের বাবা বা অভিভাবক একই। অর্থাৎ, এক জন অভিভাবকের নামে একাধিক ভোটার এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। এই তালিকায় প্রায় ২৪ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। তাঁদের শুনানির জন্য নোটিস তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং শীঘ্রই তা বিলি শুরু হবে।

Leave a Reply