শাহের দফতরের সামনে তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, আইপ্যাক-অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

দিল্লি, ৯ জানুয়ারি : রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে ইডির হানার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছেছে। আজ সকাল ৮টার কিছু পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূলের আটজন সাংসদ।

ঘণ্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পর পুলিশ প্রতিবাদকারীদের সরিয়ে নিতে চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ এবং তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিক্ষোভের উপস্থিতিতে ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল এবং শর্মিলা সরকার ছিলেন।

তৃণমূল সাংসদদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল চুরি করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ শতাব্দী রায় এবং প্রতিমা মণ্ডলকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং বাপি হালদারকে পাঁজাকোলা করে সরিয়ে দেয়। সাকেত গোখলেকেও ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁদের পরবর্তীতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ধস্তাধস্তির সময়, তৃণমূলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন পুলিশকে বলেন, আমাদের সাংসদদের গায়ে হাত দেবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স পোস্টে লিখেছেন, গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হয়, অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হয়। নির্বাচনী সংস্থাগুলি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নির্বাচনকে কাজে লাগানো হয়। বিক্ষোভকারীদের জেলে পাঠান, ধর্ষকদের জামিন দিন। এটি বিজেপির নতুন ভারতের নমুনা।

অন্যদিকে, তৃণমূলের দলীয় এক্স হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, এটি কী ধরনের ঔদ্ধত্ব অমিত শাহ? আপনি কি এখন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উপর আক্রমণ করতে দিল্লি পুলিশকে ব্যবহার করছেন?

এর পাশাপাশি, তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও ঘোষণা করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার আইপ্যাক অভিযানের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে এবং শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করবেন।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিবাদ বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply