আইপ্যাক দফতর ও প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশির সময় ‘বাধা, ইডির কাছে রিপোর্ট চাইল শাহের মন্ত্রক

দিল্লি, ৯ জানুয়ারি : আইপ্যাকের দফতর ও প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির হানার সময় কীভাবে “বাধা” দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চেয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রক ইডি থেকে বিষয়টির সবিস্তার রিপোর্ট চেয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তকারীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে কিনা, রাজ্য পুলিশের অতিসক্রিয়তার ভূমিকা কী ছিল, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থান কী ছিল, এসবের উপর বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ইডি জানিয়েছে, এই বিষয়ে তদন্ত শেষ হতে না হতেই তারা গতকালই কিছু তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জানিয়েছিল, তবে এখন আরও বিস্তৃত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডির কলকাতার দফতর থেকে ওই রিপোর্ট পাঠানো হবে দিল্লি, তারপর তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ইডি আধিকারিকেরা আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতর এবং প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেন। এর ঠিক পরেই, দুপুর ১২টার দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছান। তল্লাশি চলাকালীন মমতা সেখানে উপস্থিত হয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ল্যাপটপ সংগ্রহ করেন। সেগুলি তিনি নিজের গাড়িতে তুলে নেন এবং পরে আইপ্যাকের দফতরে চলে যান, সেখান থেকেও আরও কিছু নথি নিয়ে আসেন। বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে মমতা আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরিয়ে যান।

মমতা অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, তিনি দাবি করেন, “এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” অভিযান। তাঁর মতে, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল চুরি করা হয়েছে এবং গোপনে দলের নথি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বলেন, “আইপ্যাক দফতরে দাঁড়িয়েই আমি দেখেছি, কীভাবে বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।”

এদিকে, ইডি তাদের অভিযোগে জানায় যে, এই তল্লাশি অভিযান বেআইনি কয়লা পাচার মামলার আওতায় চালানো হয়েছে এবং এর সাথে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। ইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, “মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের পক্ষ থেকে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে এবং আমাদের কাজে সরাসরি বাধা দেওয়া হচ্ছে।”

আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীকের বাড়িতে ইডির অভিযান নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছে। তৃণমূল অভিযোগ করেছে, ইডি এবং আইপ্যাককে একসাথে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এই মামলার শুনানি শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে হবে।

এই ঘটনাগুলি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিষয়টি আইন আদালতে এখনই পৌঁছেছে।

Leave a Reply