কৃষি বর্জ্য থেকে জাতীয় সম্পদ: বায়ো-বিটুমেনকে ‘বিকসিত ভারত ২০৪৭’-এর পথে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বললেন নিতিন গড়করি

নয়াদিল্লি, ৮ জানুয়ারি:
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি কৃষি বর্জ্যকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তরের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বায়ো-বিটুমেনকে ‘বিকসিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি শুধু ভারতের সড়ক পরিকাঠামোকে মজবুত করবে না, বরং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নকেও গতি দেবে।

বুধবার CSIR-এর ‘টেকনোলজি ট্রান্সফার সেরিমনি’-তে “From Farm Residue to Road: Bio-Bitumen via Pyrolysis” শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়করি বলেন, এই উদ্যোগ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, কারণ বাণিজ্যিকভাবে বায়ো-বিটুমেন উৎপাদনে ভারত বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি এই সাফল্যের জন্য কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (CSIR)-এর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, কৃষিজ অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করে বায়ো-বিটুমেন উৎপাদনের ফলে ফসলের খড়কুটো পোড়ানোর সমস্যা কমবে, যা দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে এবং সার্কুলার ইকোনমিকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর কথায়, মাত্র ১৫ শতাংশ বায়ো-বিটুমেন মিশ্রণ ব্যবহারে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে এবং আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

এই প্রযুক্তির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের দিকটিও তুলে ধরেন গড়করি। তিনি বলেন, কৃষিজ বর্জ্যের মূল্যায়নের মাধ্যমে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

বায়ো-বিটুমেনকে জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদ্ভাবনী প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে গড়করি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব। ‘বিকসিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলতে স্থানীয় সম্পদের উপর ভিত্তি করে টেকসই সমাধানই ভবিষ্যৎপ্রস্তুত ও দৃঢ় সড়ক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply