কলকাতা, ৮ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। বুধবার, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে গোপন নথি চুরি করার অভিযোগ তুলে সল্টলেকের আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে অভিযান চালায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ‘‘এটা শুধুই রাজনৈতিক হেনস্থা এবং অপতৎপরতা। আমাদের দলের নির্বাচনী কৌশল, দলীয় নথি, এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো চুরি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি বড় ডাকাত। আমাদের কাগজপত্র, অর্থনৈতিক তথ্য, হার্ড ডিস্ক সব কিছু নিয়ে নিয়েছে।’’
প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে, তারপর সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, ‘‘এরা (ইডি) আমাদের ভোটের কৌশল চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। আমাদের শত্রুদের সাহায্য করতে তারা এত নিচে নেমেছে।’’
এদিন মমতা আরও বলেন, ‘‘এই অভিযান শুধু আইপ্যাকের অফিসে নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেও চলছে। নির্বাচনী কৌশল ছিনতাই করতে গিয়ে তারা আমাদের দলীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’’
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর পুলিশে একটি এফআইআর দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, নথি চুরির অভিযোগে এফআইআর করা হবে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাকের অফিসে দীর্ঘ সময় বসে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত প্রতীক জৈন এসে অফিসে সেটেল না করছেন, আমি এখানেই বসে থাকব।’’
মমতা এই অভিযানকে “অপরাধ” বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ‘‘আমরা জানি না কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এত নিচে নেমে যাবে। এখন আর লড়াই করার সাহস নেই, তাই তারা লুটপাট শুরু করেছে।’’
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। মমতা বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্য জুড়ে সব ব্লকে মিছিল হবে, ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে। আমরা লুটের বিরুদ্ধে লড়াই করব।’’
তিনি বিজেপির উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘‘যদি আমি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দিই, সেটা কি ঠিক হবে?’’
এভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাকের অফিসে এবং সেখানকার কর্ণধারের বাড়িতে ইডির তল্লাশি নিয়ে শোচনীয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

