নয়াদিল্লি, ৮ জানুয়ারি: কলকাতায় আইপ্যাকের সল্টলেক দপ্তর এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি অভিযান চালায়। এর ফলে সারা শহরে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ইডি-এর অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছান এবং কিছু নথি নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে, তিনি আইপ্যাকের দপ্তরেও যান এবং সেখান থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে আসেন। মমতার দাবি, ওই নথিগুলি তাঁর দলের দলীয় নথি, এবং তিনি সেগুলি নিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইডি এই ঘটনাকে তদন্তে বাধা দেওয়ার শামিল হিসেবে দেখছে এবং তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
এ ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে ইডি মামলা দায়ের করেছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের কাছে তারা মামলা দায়েরের অনুমতি পেয়েছে এবং শুক্রবার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ইডি অভিযান করিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যাতে তৃণমূলের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করা যায়।” তাঁর দাবি, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে আমার দলের আইটি দপ্তরে অভিযান চালানো হয়েছে এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির চেষ্টা করা হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এগুলি আমার দলের। আমি এগুলি নিয়ে যাচ্ছি।”
তবে, দিল্লির ইডি দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালে দায়ের হওয়া কয়লা পাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই এবং কোনো রাজনৈতিক কার্যালয়ে অভিযান করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ তুলেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইডি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন পুলিশ তাদের সহায়তা করেছে এবং তল্লাশি সুষ্ঠুভাবে চলছে। ইডির দাবি, এই অভিযান নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়নি। তবে, মমতার বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, ইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের অফিসে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নথি নিয়ে গেছেন, তা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের আগামী শুনানিতে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

