আগরতলা, ৮ জানুয়ারি: পৌষ সংক্রান্তি দোরগোড়ায়। শীতের আমেজে গ্রামবাংলা জুড়ে ইতিমধ্যেই উৎসবের রঙ লেগেছে। নতুন ধান, পিঠে-পুলি আর নানা লোকজ মিষ্টান্নকে ঘিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। এরই মধ্যে ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় ব্লকের গোকুলনগর গ্রামে চিরাচরিত তিল্লাই ও বাতাসা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় কারিগররা।
প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে গোকুলনগরের তিল্লাই ও বাতাসার বিশেষ কদর থাকে। শুধু আশপাশের এলাকাই নয়, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও এই গ্রামে তৈরি মিষ্টান্নের চাহিদা থাকে ব্যাপক। কিন্তু চলতি বছরে উৎসবের মরশুম এলেও কারিগরদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কারিগরদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অভিজ্ঞ কারিগর অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় কিংবা ভিন্ন জায়গায় কাজের খোঁজে গ্রাম ছাড়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ফলে হাতে থাকা অর্ডার সময়মতো পূরণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
স্থানীয় কারিগরদের কথায়, “সংক্রান্তির সময় তিল্লাই-বাতাসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু কাজের লোক না থাকায় যতটা উৎপাদন হওয়ার কথা, ততটা হচ্ছে না। এতে আমাদের আয়ের উপরও প্রভাব পড়ছে।”
পৌষ সংক্রান্তির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ঘিরে গ্রামবাংলার এই প্রাচীন মিষ্টান্ন শিল্প টিকিয়ে রাখতে শ্রমিক সংকট কাটানো জরুরি বলে মনে করছেন কারিগররা। নচেৎ আগামী দিনে এই লোকজ শিল্প ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

