ছত্তিশগড়ে ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান ‘গায়েব’, ইঁদুর এবং উইপোকাকে দায়ী করে বিতর্ক

কবর্ধা, ৮ জানুয়ারি: ছত্তিশগড়ের কবর্ধা জেলার সরকারি গুদাম থেকে ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই ধান চুরি হয়ে গেছে, তবে সরকারি আধিকারিকরা ইঁদুর ও উইপোকাকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, এসবই তাদের দাপটের ফল। তবে বিরোধী দলগুলি সন্দেহ প্রকাশ করে একে ‘চুরি’ বলেই অভিযোগ তুলেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন সরকারি গুদামে সহায়ক মূল্যে মোট ৭ লক্ষ ৯৯ হাজার কুইন্টাল ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৬ হাজার কুইন্টাল ধান গায়েব হয়ে গেছে, যার বর্তমান বাজারদর প্রায় সাত কোটি টাকা। বিশেষত, কবর্ধা জেলার চারভাটা কেন্দ্র থেকে ২২ হাজার কুইন্টাল ধান উধাও হয়েছে।

এ ঘটনা সামনে আসতেই সরকারি গুদাম থেকে ধান চুরির অভিযোগে সিলেবাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সরকারি ধান সংগ্রহকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ধান চুরি হয়নি। বরং গুদামে ইঁদুর এবং উইপোকা আক্রান্ত হয়ে ধান খেয়ে নিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, গুদামের অবস্থা ভালো নয় এবং সেখানে ইঁদুর ও উইপোকাদের দাপটে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনার পর কংগ্রেস নেতারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেছেন। তারা হাতে ইঁদুর ধরার খাঁচা নিয়ে ধান গায়েব হওয়ার বিষয়ে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কংগ্রেসের দাবি, আসলে সরকারি গুদামে চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং ইঁদুর বা উইপোকা দায়ী নয়।

এদিকে, বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলছে, সরকারি গুদামে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ ধান উধাও হয়ে যেতে পারে। তাদের দাবি, ইঁদুর এবং উইপোকা কোন অজুহাত হতে পারে না, বরং সরকারের কোনও গাফিলতি বা অব্যবস্থাপনার ফলেই ধান চুরি হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধান গায়েব হওয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কোনও ঘোষণা আসেনি। তবে এটি একটি রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply