অম্বরনাথ, ৭ জানুয়ারি : কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের ঘোষণা দিয়ে বিজেপি দেশজুড়ে রাজনীতি করছে, অথচ সেই দলই মহারাষ্ট্রের অম্বরনাথ পুরসভায় কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে! রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জোটকে কেন্দ্র করে বিস্তর বিতর্কের জন্ম হয়েছে। একদিকে বিজেপি তাদের জয়কে নিয়ে উচ্ছ্বসিত, অন্যদিকে শিণ্ডে শিব সেনা এই জোটকে ‘অপবিত্র’ বলে আক্রমণ করেছে।
মহারাষ্ট্রের অম্বরনাথ পুরসভায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে, যেখানে কংগ্রেসের সমর্থন ছিল অপরিহার্য। তেজশ্রী করঞ্জুলে, বিজেপি প্রার্থীর বিপুল ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করেন। জানা গেছে, ৩২ জন কাউন্সিলর তাঁকে সমর্থন করেছেন, যার মধ্যে ১৬ জন বিজেপির, ১২ জন কংগ্রেসের এবং ৪ জন এনসিপির অজিত পাওয়ার শিবিরের। অর্থাৎ, কংগ্রেসের ১২ ভোট না পেলে বিজেপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারত না। এই কারণেই এই জোট নিয়ে অম্বরনাথের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শিণ্ডে শিবিরের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। শিণ্ডের দলের বিধায়ক বালাজি কিঙ্কর এই জোটকে ‘অপবিত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “একটি দল কংগ্রেসমুক্ত ভারতের কথা বলে, কিন্তু এখন কংগ্রেসের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করছে। এটা শিব সেনার পিঠে ছুরি মারার মতো।” তাঁর মতে, বিজেপি কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
এদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই সমালোচনা কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিজেপির সহ-সভাপতি গুলাবরাও করঞ্জুলে পাটিল পাল্টা মন্তব্য করেছেন, “শিব সেনার সঙ্গে জোটই ‘অপবিত্র’! গত ২৫ বছর ধরে শিণ্ডে দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তারপরও বিজেপি তাদের সঙ্গেই জোট করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো সদর্থক সাড়া মেলেনি।”
এই জোটের ফলে অম্বরনাথে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গেছে, তবে মহারাষ্ট্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক মহলে এর পরিণতি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেসের এই জোট কি রাজনৈতিক বাস্তবতার ফল, না কি আদতেই একটি বিতর্কিত আপস—এ নিয়েও চলছে জল্পনা। এই জোটের ভবিষ্যৎ এবং তার প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা মতামত প্রকাশ করছেন।
2026-01-07

