নিউ ইয়র্ক, ৭ জানুয়ারি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? এই বিতর্ক নতুন করে উস্কে দিল আমেরিকার এক মর্মান্তিক ঘটনা। চ্যাট জিপিটির দেওয়া ওষুধের মাত্রা অনুসরণ করতে গিয়ে প্রাণ হারাল ১৮ বছরের এক তরুণ। মৃতের নাম স্যাম নেলসন। এই ঘটনায় প্রযুক্তি বিশ্বের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্যাম গত ১৮ মাস ধরে নিরন্তর চ্যাট জিপিটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথোপকথন চালিয়ে আসছিল। বিশেষ করে কিছু ‘অবৈধ’ বা নিষিদ্ধ ওষুধের প্রতি তার আসক্তি তৈরি হয়েছিল। ওই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং নিরাপদ মাত্রা জানতে সে বারবার এআই বটের সাহায্য চাইত।
সূত্রের খবর, স্যামের চ্যাট হিস্ট্রি ঘেঁটে দেখা গিয়েছে যে সে চ্যাট জিপিটিকে লিখেছিল, “আমি নিশ্চিত করতে চাই যাতে আমি অতিরিক্ত মাত্রায় এই ওষুধ না খাই। অনলাইনে এই ওষুধ সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য নেই। আমি ভুলবশত খুব বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলতে চাই না।”
শুরুতে চ্যাট জিপিটি তাকে সতর্ক করেছিল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছিল। কিন্তু স্যাম হাল ছাড়েনি। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন কৌশলে বা ‘ম্যানিপুলেশন’-এর মাধ্যমে সে চ্যাট জিপিটির কাছ থেকে তথ্য বের করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে এই কথোপকথন চলার পর ঘটে সেই মর্মান্তিক অঘটন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর কিছু দিন আগে স্যাম চ্যাট জিপিটিকে জানায় যে সে আরও বেশি ‘নেশাতুর’ হতে চায়। অভিযোগ, এর উত্তরে চ্যাট জিপিটি তাকে ওই ওষুধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এআই-এর সেই নির্দেশ মেনেই ওষুধ সেবন করে স্যাম, যার পরিণাম হয় মৃত্যু।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই-এর সুরক্ষাকবচ বা ‘গার্ডরেল’ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যবহারকারী তাকে দিয়ে বিপজ্জনক তথ্য বের করে নিতে পারে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্যামের পরিবার এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের বিপদ নিয়ে সরব হয়েছে।
2026-01-07

