বদলে যাচ্ছে অসমের রাজপথ; ‘অসম মালা’ প্রকল্পে বিশ্বমানের সড়ক পরিকাঠামোর বার্তা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

গুয়াহাটি, ৭ জানুয়ারি : অসমের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে রাজ্য সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘অসম মালা’ প্রকল্প। বুধবার এই প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, একসময়ের ভঙ্গুর ও মন্থর যোগাযোগ ব্যবস্থা কাটিয়ে অসম এখন বিশ্বমানের হাইওয়ে এবং নিরবচ্ছিন্ন ট্রান্সপোর্ট করিডোরের যুগে প্রবেশ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “ধীরগতি ও নড়বড়ে রাস্তা এবং দুর্বল লজিস্টিক ব্যবস্থার দিন শেষ। ‘অসম মালা’র হাত ধরে অসমের পরিকাঠামো এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।” তিনি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের সড়ক নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন ঘটানো হয়েছে, যা জেলা ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভারতমালা’ প্রকল্পের আদলে তৈরি অসম রাজ্য সরকারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘অসম মালা’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের প্রধান হাইওয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলা সড়কগুলোকে প্রশস্ত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বিশ্বমানের আধুনিক পরিকাঠামোয় উন্নীত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মূলত শিল্পাঞ্চল, কৃষি এলাকা এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ছাড়া, অসমের প্রতিকূল পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং বিশেষ জলবায়ুগত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে এতে উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম বা জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং টেকসই সারফেস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, উন্নত সড়ক ব্যবস্থার ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমেছে এবং কৃষকদের জন্য বাজারের পথ সহজ হয়েছে। সেই সঙ্গে জরুরি পরিষেবা ও জনসেবা পৌঁছে দেওয়া এখন অনেক দ্রুততর হয়েছে। মূলত ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র অধীনে অসমকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি বড় কানেক্টিভিটি হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই কাজ চলছে।

আধিকারিকদের মতে, ‘অসম মালা’ কেবল একটি রাস্তা তৈরির প্রকল্প নয়, এটি রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।

Leave a Reply