নওগাঁ, ৭ জানুয়ারি : বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার ধারাবাহিক ঘটনায় আরও এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর এলাকায় চুরির সন্দেহে জনতার ধাওয়া খেয়ে খালে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক ২৫ বছর বয়সি হিন্দু যুবক।
নিহতের পরিচয় মিঠুন সরকার। তিনি মহাদেবপুর উপজেলার ভাণ্ডারপুর গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ খাল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে বলে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, চুরির সন্দেহে একদল স্থানীয় বাসিন্দা মিঠুন সরকারকে তাড়া করে। জনতার হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে তিনি একটি খালে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে।
তবে মিঠুন সরকার আদৌ কোনও চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ করা হয়নি।
মিঠুনের মৃত্যু সাম্প্রতিক দিনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ঘটে চলা একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে উঠছে। সোমবার যশোর জেলায় এক হিন্দু ব্যবসায়ী তথা একটি সংবাদপত্রের কার্যনির্বাহী সম্পাদককে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা মাথায় গুলি করে খুন করে। একই দিনে নরসিংদী শহরে এক ৪০ বছর বয়সি হিন্দু মুদি দোকানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়।
এর আগেও চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার কেয়ারভাঙ্গা বাজারের কাছে খোকন চন্দ্র দাস (৫০) নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে হামলা চালিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে।
ডিসেম্বর মাসেও একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ী শহরে কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাস (২৫)-কে জনতা পিটিয়ে খুন করে এবং পরে তাঁর দেহে আগুন লাগানো হয়।
এই ঘটনাগুলি এমন এক সময় সামনে আসছে, যখন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

