নেপালে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা: ভারত-নেপাল সীমান্ত সিল, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

বীরগঞ্জ, ৬ অক্টোবর : ভারতের সীমান্তবর্তী নেপালের বেশ কয়েকটি জায়গায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নেপালের পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়া পর বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে, যা দ্রুত হিংসার রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিহারের রক্সৌল সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং ভারত জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত আন্তঃসীমান্ত চলাচল সীমিত করেছে।

নেপাল পুলিশের দাবি, ধানুষা জেলার কমলা মিউনিসিপ্যালিটির সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা, এবং সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই, সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই মুসলিম যুবকের অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে প্রতিবাদে পারসা জেলার বীরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা দ্রুত হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং পুলিশের উপর ইট-পাথর ছোড়ে। স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুর চালানো হয়।

নেপাল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রায় ছয় রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পরে, পারসা জেলা প্রশাসন বীরগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করে এবং নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে চলে যায়।

উত্তেজনা বাড়ার পর, ভারতের শশস্ত্র সীমা বল সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে সিল করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে ভারত-নেপাল সংযোগকারী মৈত্রী ব্রিজে। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি করা হচ্ছে, এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেখানে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়াও, সীমান্তের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন সাহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পানটোকা, সিওয়ান টোলা এবং মুশারওয়া-সহ একাধিক সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছে।

নেপালের বীরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায়, নেপালে কর্মরত অনেক ভারতীয় শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বীরগঞ্জ শহরের সমস্ত দোকানপাট ও বাজার বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে, ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ না হলে, সীমান্তে চলাচল সীমিত রাখা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply